সাঈদ আহসান খালিদ
গ্রিক পুরাণের নদীদেবতা সেগিসাস ও জলদেবী লেরিওপের সুদর্শন পুত্রসন্তান নার্সিসাস। অপরূপ তাঁর সৌন্দর্য। নার্সিসাস অবজ্ঞাভরে প্রত্যাখ্যান করেছিল দেবী ইকোর ভালোবাসা। ইকো প্রতিশোধের দেবী নেমেসিসের কাছে এই প্রত্যাখ্যানের নালিশ জানায়। নেমেসিস নার্সিসাসের ওপর জাদু প্রয়োগ করলে, নার্সিসাস পানিতে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে প্রতিবিম্বের প্রেমে পড়ে যায়। পানিতে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে তিনি এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে নিজের চোখ অন্যদিকে ফেরানোর সামর্থ্যও হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং এই অবস্থাতেই মারা যান। নার্সিসাসের সৌন্দর্য আর আত্মপ্রেম তাঁর জীবনহানির কারণ হয়েছিল। নার্সিসাসের যেখানে মৃত্যু ঘটে, ঠিক সেখানে খুব সুন্দর একটি ফুল জন্ম নেয় আর ওই ফুল পরিচিত হয় তাঁর নামেই- ফুলের নাম নার্সিসাস। এই নার্সিসাস থেকেই নার্সিসিজমের ধারণা এসেছে, যা মানুষের মধ্যে এক ধরনের আত্মবাদ, আত্মগর্ব, আত্মশ্লাঘার বৈশিষ্ট্য ইঙ্গিত করে।
শিল্প-সাহিত্যের সৃষ্টিশীল জগতে এমন নার্সিসিস্ট, দাম্ভিক কিন্তু সহজাত প্রভিভার অধিকারী আশ্চর্য সৃষ্টিশীল মানুষের কথা চিন্তা করতেই প্রথমে মনে আসে দুজন শব্দ জাদুকরের কথা- একজন উর্দু এবং ফার্সি ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি মির্জা গালিব এবং অন্যজন বাংলা ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি, বাঙালীর গর্ব মাইকেল মধুসূদন দত্ত। এই দুই মহাকবির জীবনালেখ্য, জীবন দর্শন আর যাপিত জীবনধারা প্রায় অভিন্ন। কবি হিসেবে তাঁরা দুজনেই কালোত্তীর্ণ হয়েছেন-মহাকাল শ্রেষ্ঠত্বের আসন তাঁদের জন্য ছেড়ে দিয়েছে বহু আগেই কিন্তু ব্যক্তিজীবনে তাঁরা দুজনেই ছিলেন মারাত্মক অসংযমী, হেঁয়ালি, বেহিসেবি, বেপরোয়া। নিজেদের প্রতিভা নিয়ে দুজনেই ছিলেন প্রচণ্ড দাম্ভিক, আত্মপ্রেমী, উদ্ধত কিন্তু জীবন আর জীবিকা নিয়ে তাঁদের বিশেষ কোন মনোযোগ ছিলনা- দুজনেরই শেষ জীবন চরম দুঃখ ও দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। জীবিত অবস্থায় তাঁরা যথাযোগ্য মর্যাদা পায়নি- মৃত্যুর পর তাঁরা বিখ্যাত হয়ে উঠেন। এই দুজন কবি তাই একই সাথে নার্সিসিজম, দাম্ভিকতা, লাগামহীন ব্যক্তিজীবনের যেমন প্রতিভূ তেমনি সৃষ্টিশীলতা আর প্রভিভার কষ্টি পাথরে তাঁরা কালোত্তীর্ণ শ্রেষ্ঠ শব্দ জাদুকর।
মির্জা গালিবের জন্ম আগ্রায়, ১৭৯৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারিতে। মির্জা আসাদুল্লাহ বেগ খান, তাঁর আসল নাম। গালিব তাঁর ছদ্ম নাম। এর আগে তিনি ‘আসাদ’ ছদ্মনামে লিখালেখি করতেন। ‘আসাদ’ শব্দের অর্থ সিংহ আর ‘গালিব’ শব্দের অর্থ, সর্বশ্রেষ্ঠ, বিজেতা। নামের মতোই তিনি ছিলেন তেজি, দাম্ভিক আর শের স্রষ্টায় শ্রেষ্ঠ। যুক্তিবিদ্যা, জ্যোর্তিবিদ্যা, চিকিৎসাশাস্ত্র, অধিবিদ্যা বা মেটাফিজিক্স ইত্যাদি বিষয়ে পড়াশোনা করলেও তাঁর বিশেষ ঝোঁক ছিল ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি। তিনি উর্দু ভাষার শ্রেষ্ঠ কবি হলেও ফারসি ভাষার প্রতি গালিব ছিলেন অত্যানুরাগী এবং এ ভাষায় তাঁর দখল ছিল ঈর্ষনীয়। উপনিবেশিক পরাধীনতার মাঝে গালিবের জন্ম, গালিবের বাবা মির্জা আব্দুল্লাহ বেগ খান এবং চাচা মির্জা নাসিরুল্লাহ বেগ খান দুজনেই যখন যুদ্ধক্ষেত্রে সৈনিক হিসেবে নিহত হয়েছিলেন তখন গালিব নেহাত একজন শিশু। ১৮১০ সালে তের বছরের কম বয়সে গালিব নওয়াব ইলাহী বখশ খানের কন্যা ওমরাও বেগমকে বিয়ে করেন। বিবাহিত জীবনে সাত সন্তানের জনক হলেও তাঁর একটি সন্তানও বাঁচেনি। শৈশবের এই অভিভাবকহীনতা আর প্রিয়জনের মৃত্যু গালিবের মনে চিরস্থায়ী এক বিষণ্ণতা, উদাসীনতা আর জীবনের প্রতি বৈরাগ্যের জন্ম দেয় বলে অনেকের মত। গালিবের শের এর ছত্রে ছত্রেও এই দুঃখবোধ, অভাব, আর অপ্রাপ্তির অভিযোগ বারংবার ফুটে উঠেছে। তেমনি এক শের এ গালিব বলছেন-
‘দিল হি তো হ্যায়, না সংগ ও খিস্ত, দর্দসে ভর না আয়ে কিউ/ রোয়েংগে হাম হাজার বার, কোই হামেঁ সাতায়ে কিউ।’
অর্থাৎ, ‘এটাতো আমার মন, ইট পাথরতো নয়, বেদনায় ভরবে না কেন?/
আমি কাঁদবো হাজারবার, কেউ আমায় উত্যক্ত করে (কাঁদায়) কেন?’
গালিব মাত্র নয় বছর বয়সে ফারসিতে ‘শের’ (couplet)/কবিতা- গজল লেখা শুরু করেন। গালিবের লেখার অভ্যেস ছিল অদ্ভুত। গালিব মদ পান করার সময় লিখতেন এবং তা প্রায়ই সন্ধ্যায়৷ মদ হাতে, একা বসে একটি সুতা নিয়ে খেলতেন, কবিতার একটি লাইন লিখার পর সুতায় একটি গিঁট দিতেন। যখন শুতে যেতেন, তখন সুতায় অনেকগুলো গিঁট থাকতো। সকালে তিনি গিঁটগুলো খুলতেন৷ লাইনগুলো তিনি মুখস্থও বলতে পারতেন। গালিব শুধুই একজন কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন গভীর দার্শনিক, ভাবুক এবং চিন্তাশিল্পী। গালিবের কাব্যে রাজনৈতিক চেতনা নেই, বা প্রায় অনুপস্থিত। ব্যক্তিগত অনুভূতি, অভাব, অভিযোগ, না-পাওয়া, প্রেম এসবই বিবৃত হয়েছে তাঁর শেরজুড়ে। হয়তো পরাধীন সময়ে জন্মে, পরাধীনতার শিকলে আবদ্ধ থেকে রাজনৈতিক প্রণোদনার কাব্য লেখা তাঁর পক্ষে সম্ভব ছিল না। প্রেমপূজারী গালিবের শেরগুলো নারী প্রেম, বিরহ আর স্তাবকতায় ভরা। নারীর সৌন্দর্য, হেয়ালিপনা, উপেক্ষা, বিরহ কিংবা নিষ্ঠুরতা অসাধারনভাবে ফুটে উঠেছে গালিবের কাব্যে। গালিব নিজের মন্দভাগ্যকে নিজেই শ্লেষাত্মক মন্তব্যে জর্জরিত করেছেন। তাঁর কবিতা তাই তীক্ষ্ণ, বিদ্রূপাত্মক আর বিষণ্ণ। গালিবের কবিতায় ঈশ্বরপ্রেম আর নারীপ্রেমের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য পাওয়া যায় না। এ থেকে তাঁর কবিতায় উঁচুদরের সুফিবাদ থাকার সম্ভাবনাও অনেকে অনুমান করেছেন।
গালিব ব্যক্তিজীবন এবং কাব্যে রহস্যময়তা আর দুর্বোধ্যতা পছন্দ করতেন। বেশিরভাগ মানুষ তাঁর কবিতার মর্মার্থ অনুধাবনে ব্যর্থ হতেন। এজন্য সমকালীন কাব্যবোদ্ধাদের দৃষ্টিতে ‘মুশকিল পসন্দ,'প্রলাপ বকিয়ে’ বা 'poet of nonsense’ খেতাবেও গালিবের অপখ্যাতি ছিল। কবিতার আসর বা মুশায়েরায় গালিবকে তাঁর কবিতার দুর্বোধ্যতার কারনে বিভিন্ন ব্যাঙ্গাত্নক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হতো। কিন্তু দাম্ভিক কবি গালিব এসব সমালোচনা তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে বলতেন- ‘আমি প্রশংসার কাঙ্গাল নই, পুরস্কারের জন্যে লালায়িত নই, আমার কবিতার যদি কোন অর্থও না থাকে তা নিয়েও আমার তোয়াক্কা নেই৷’ তাঁর কবিতার শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে নিজের অহংকার এতো প্রচন্ড ছিল যে, তিনি মনে করতেন খুব কম লোকই তার কবিতাকে বিচার করতে সক্ষম৷ তবে মাঝে মাঝে সমালোচনার তীর তাঁকেও তীব্রভাবে বিদ্ধ করতো বটে। গভীর হতাশায় গালিব কে তাই উচ্চারণ করতে শুনি-
‘ইয়া রব, ও না সামঝে হ্যায় না সামঝেংগী মেরী বাত/ দে অর দিল উনকো জো না দে মুঝকো জবান অর।’
অর্থাৎ,‘হে খোদা, সে না বুঝতে পারে আমাকে, না বুঝতে পারে আমার কথা/ তাকে দাও ভিন্ন হৃদয়, অথবা আমাকে দাও ভিন্ন বাচনভঙ্গি।’
উর্দু আর ফার্সি সাহিত্যে শুধুমাত্র কবিতা, শের বা গজলে গালিবের অবদান ছিলো তা নয়। গদ্য সাহিত্যেও বিশেষতঃ চিঠি লেখায় তিনি এক বিশেষ রীতির জন্ম দেন। তাঁর রচিত "দাস্তাম্বু" রোজনামচা বা দিনলিপি তাঁর গদ্য সাহিত্যের এক অনবদ্য সৃষ্টি যা একই সঙ্গে ১৮৫৭ সালে সংঘটিত সিপাহী বিদ্রোহ এবং ব্রিটিশ কর্তৃক তা নির্মমভাবে দমনের এক ঐতিহাসিক দলিল হয়ে আছে আজো। গালিব শুধু কবিতার জন্যই বিখ্যাত ছিলেন না, বিখ্যাত ছিলেন তাঁর দাম্ভিকতা, আভিজাত্যবোধ, বেপরোয়া প্রথাবিরোধী জীবনযাপন এবং সুরা, সাকী আর জুয়ার প্রতি তীব্র আসক্তির জন্য। সুরার প্রতি আসক্তিকে গালিব মনে করতেন আশির্বাদ, জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং কবিত্বের শক্তি৷ জুয়া খেলার প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ ছিল তাঁর। নিষিদ্ধ জুয়া খেলার জন্য ব্রিটিশ সরকার কর্তৃক একবার কারাভোগও করেছিলেন তিনি। একবার কেউ একজন তাঁর সামনে সমকালীন আরেক কবি শাহবাই এর কবিতার প্রশংসা করলে তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে বলে ওঠেন-
“কী করে শাহবাই একজন কবি হতে পারে? সে কখনো মদ পান করেনি, জুয়া খেলেনি, প্রেমিকার চটির আঘাত খায়নি; কিংবা একবারের জন্যও জেলে যায়নি।”
গালিব ছিলেন নারীসঙ্গ প্রিয়, বহুগামী, ভোগবাদী এবং ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে তাঁর বিশেষ নিষ্ঠা ছিল না৷ অবশ্য এ নিয়ে তাঁর কোন রাখডাকও ছিল না। ‘খাও, পান করো এবং খুশি থাকো’ কিংবা ‘বুদ্ধিমান মাছি চিনির ওপরে বসে; মধুর ওপরে নয়’-গালিবের এই উক্তি একসময় প্রবাদে পরিণত হয়। গালিবের পক্ষেই বলা সম্ভব-
‘প্রতি বসন্তের শুরুতে একজন নতুন রমনী নাও কারন- গত বছরের হিসাব অর্থহীন বিষয়।’
গালিব একবার ‘হাসিনা’ নামের এক বারবণিতার প্রেমে পড়েছিলেন। তাঁর এক বন্ধু এটির সমালোচনা করলে গালিব যে উক্তিটি করেন তা আজো বিখ্যাত হয়ে আছে-
‘ইশক্ পর জোর নেহী; হৈ য়েহ্ বোহ্ আতশ, গালিব/ জো লগায়ে নহ্ লগে, অওর বুঝানে নহ্ বুঝে।’
অর্থাৎ, ‘প্রেমের উপর জোর খাটেনা, এ সেই আগুন, গালিব- যা জ্বালালে জ্বলে না, নেভালে নেভে না’ ।
নিজের জীবনযাপন আর কৃতকর্ম নিয়ে গালিবের কোন অনুতাপও ছিল না। তাইতে গালিব শ্লেষভরে বলছেন-
‘আতা হৈ দাগ হসরৎ-এ দিল-কা শুমার য়াদ/ মুঝ-সে মেরে গুনাহ্- কা হিসাব অয় খোদা নহ্ মাঁগ’
অর্থাৎ, ‘মনে পড়ে যায় এখনো কতো অতৃপ্ত বাসনার ক্ষতচিহৃ বুকে রয়েছে/ হে খোদা আমার কাছ থেকে পাপের হিসাব চেয়ো না।’)
মির্জা গালিবের লেখায় রসবোধ ছিল প্রখর। একবার তার এক বন্ধুর তৃতীয়পক্ষের স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ শুনে তিনি বন্ধুকে চিঠি লিখেন- “আল্লাহ! আল্লাহ! ইয়ে এক বোহ হেয় যো তিন-তিন দফাহ্ ইস্ কায়েদ সে ছুট্ চুকা হেয়, অওর এক হাম হেয়, কেহ্ আগলে পচাস বরাসসে যো ফাঁসীকা ফান্দা গ’লে মে’ পরা হেয়; তো না ফান্দাহি টুটা হেয়, না দম্ হি নিকালতা হেয়।”
(আল্লাহ! আল্লাহ! আমাদের মধ্যে এমন মানুষও আছে যে তিন তিনবার বিবাহ নামের কয়েদখানা থেকে মুক্তিলাভের সৌভাগ্য লাভ করে। আর আমি একজন, যে বিগত ৫০ বছর ধরে এই কয়েদখানায় বন্দী, ফাঁসির দড়ির মতো যা আমার গলায় আঁটকে আছে। না দড়ি ছিঁড়ে, না আমি মরি)
শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর, যিনি নিজেও একজন উঁচুমানের শায়ের ছিলেন তিনি মির্জা গালিব কে সভাকবির মর্যাদা দিয়েছিলেন। সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর গালিব কে ‘নজ্‌ম-উদ্‌-দৌল্লা, দবীর-উল-মুলক, নিজাম জঙ্গ, অর্থাৎ সাম্রাজ্যের তারকা, দেশের শ্রেষ্ঠ কবি, যুদ্ধের গরবী নায়ক) উপাধিতে ভূষিত করেন ১৮৫০ সালে। কেবল খেতাবই দেননি, মীর্জা গালিবকে নিজের ‘মুরশিদ’ বলেও মেনে নিয়েছিলেন। ‘মুরশিদ’— মানে দর্শনগুরু বা ওস্তাদ কিংবা ‘আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক'। আশ্চর্য খেয়ালী এই শিল্পী কখনো অর্থের জন্য কাজ করেন নি। তাঁর জীবিকা নির্বাহ হয়েছে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় অথবা ধার কর্য করে নতুবা কোনো বন্ধুর দানে। কিন্তু ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ তাঁর জীবনে সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসে। মোগল বাদশাহ'র সময়ে তিনি যে ভাতা এবং আনুকল্য লাভ করতেন, তা বৃটিশ কর্তৃপক্ষ বাতিল করেন৷ ফলে মির্জা গালিবকে তীব্র আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। চরম আর্থিক দারিদ্র্য আর দুরাবস্থার মধ্যে ১৮৬৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি গালিব ইন্তেকাল করেন এবং তাকে দিল্লীর নিজামউদ্দিন আউলিয়ার মাজারের কাছে পারিবারিক গোরস্তানে দাফন করা হয়৷ জীবিত অবস্থায় প্রতিভার মূল্য পান নি এই স্বভাব কবি। তিনি নিজেই বলে গিয়েছিলেন, মৃত্যুর পর উত্তর প্রজন্ম তাঁকে স্বীকৃতি দেবে। সত্যিই পরবর্তীতে উর্দু এবং ফার্সি সাহিত্যের কবিদের মধ্যে তাঁকে নিয়েই সবচেয়ে বেশি লেখা হয়েছে, আলোচনা হয়েছে। উপমহাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে সারা বিশ্বেই মির্জা গালিব এক জনপ্রিয় কবি- বিষাদের, প্রেমের, হাহাকার আর অতৃপ্তির অতুলনীয় কবি। সাহিত্যাকাশে মির্জা গালিব পূর্ণ চাঁদের মতো- তাঁর কলংক আছে কিন্তু তাঁর জোছনার সৌন্দর্য, তাঁর দ্যুতির কাছে রাতশেষে সবাইকে হার মানতে হয়।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.