সাময়িকী.কম
গাজীপুরের শালনা বাশবাড়ি এলাকায় বন্যার পানিতে ডুবেছে রাস্তা, সেখানে পাড়ার এ চায়ের দোকানটি যেন মাথা উচু করে ভেসে আছে। জীবনের তাগিতে চায়ের দোকানের পরিবর্তে স্টিমার-টলারের তেল বিক্রি হয় দোকানটিতে। একজন নারী বিক্রেতা তেল বিক্রির জন্য অপেক্ষায় বসে থাকেন স্টিমার অথবা টলারের আশায়। ছবি : রফিকুল ইসলাম সাগর 

এবারের বন্যায় দেশের ১৭ জেলায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সরকারের সামান্য ত্রাণের বাইরে রাজনৈতিক-সামাজিক কোনো সংগঠন এবং ব্যবসায়ী-শিল্পপতি বা কোনো এনজিও বানভাসি মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না। দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। দু’দিন ধরে কয়েকটি নদীর পানি কমলেও এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ভেসে যাচ্ছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি। কোন কোন এলাকার লোকজন ইতিমধ্যেই বাস্তুহারা হয়েছেন। রাস্তা-ঘাটের পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষগুলোর দুর্ভোগের চিত্র প্রায় একই। চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো এখনও ডুবে থাকায় সেসব এলাকার লোকজন এখনও ঘরে ফেরেনি। তাছাড়া ঘরে খাবার না থাকায় কর্মহীন মানুষরা বিপাকে পড়েছে। বেশিরভাগ বন্যাকবলিত এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে।  

এদিকে পদ্মার আকস্মিক ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়া রো-রো ফেরিঘাটের র্যামের উদ্ধার কাজ চলছে। বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ রুস্তম মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত রো-রো ফেরিঘাটের ডুবে যাওয়া র্যামের উদ্ধার তত্পরতা অব্যাহত রেখেছে। টানা ১৫ দিন ধরে মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার হাজার হাজার যাত্রীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।  

 জানা যায়, গত ২ সপ্তাহে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝিনাই ও সুবর্ণখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে যায়। এছাড়া প্রায় ৫ লক্ষাধিক টাকার পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এছাড়া পানির তোড়ে প্রায় ৪০ কি.মি কাঁচা পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। 

আড়িয়াল খাঁ নদের ভাঙনে সন্ন্যাসীরচর ইউনিয়নে শতাধিক ঘর বাড়ি, বহেরাতলা ইউনিয়নের ১টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চরজানাজাত ইউনিয়নের এমএস দাখিল মাদ্রাসাসহ অর্ধ শতাধিক ঘরবাড়ি, ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক নদী রক্ষা বাঁধের ৩শ মিটারসহ ৫০টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, বন্যায় সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ৩০টি ইউনিয়নে ৩৬ হাজার কৃষকের ৩ হাজার ৪২৯ হেক্টর ফসলি জমি, সরিষাবাড়ীতে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল, বিনষ্ট হয়েছে।
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.