তানভীর আশিক
দেবরাজ জিউসের বজ্রের আঘাতে নিহত হয় দেবতা অ্যাপোলোর ছেলে এসক্লেপিয়াস। দেবতা অ্যাপলো ক্ষেপে গিয়ে জিউসের বজ্র নির্মান করতো যে দৈত্য তাকে মেরে ফেললো। এই অপরাধে অ্যাপোলোকে পৃথিবীতে নির্বাসন দেয়া হলো। শুধু নির্বাসনই নয়, পৃথিবীর এক রাজার দাস হিসাবে থাকতে হবে একবছর। অ্যাপোলোকে পাঠানো হলো ফ্যারি নামক এক রাজ্যে। সেই রাজ্যের রাজা অ্যাডমিটাস অ্যাপোলোকে দাস হিসাবে নয়, রাখলেন বন্ধু হিসেবে।
একদিন দুই বন্ধু গিয়ে হাজির পাশের রাজ্য থেসালির রাজা পেলিয়াসের কন্যা অ্যালসেস্টিসের স্বয়ংবরা অনুষ্ঠানে। অ্যালসেস্টিসের রূপের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিলো চারদিকে। তাকে বিয়ে করতে শত শত রাজপুত্র এসে ভিড় করলো। রাজা পেলিয়াস পড়লেন বিপদে। এত এত রাজকুমারের মাঝে কাকে বেছে নিবে তার কন্যা! শেষে তিনি ঘোষণা করলেন, যে যুবরাজ সিংহ আর শূকর টানা রথে চড়ে আমার কন্যাকে বিয়ে করতে আসবে, তার হাতেই তুলে দেবো আমার কন্যাকে।
অ্যাডমিটাস এটা শুনে ভেঙ্গে পড়লেন। একবার দেখেই তিনি প্রেমে পড়ে গেছেন অ্যালসেস্টিসের। কিন্তু এই আজব শর্ত কী করে মানবে! শূকরকে সিংহের সামনে আনলেই তো তাকে মেরে খেয়ে ফেলবে। অ্যাপোলো বুঝলেন অ্যাডমিটাসের মনের অবস্থা। বললেন, অ্যাডমিটাস চিন্তা করো না। ব্যবস্থা করছি আমি।
পরদিন অ্যাপোলোর সহায়তায় ঠিকই অ্যাডমিটাস হাজির হলো সিংহ আর শূকর টানা রথে চড়ে আর জয় করে ফেরে অ্যালসেস্টিসকে। মহা ধুমধামে বিয়ে করে অ্যালসেস্টিসকে নিয়ে যায় ফ্যারিতে। সুখে শান্তিতেই কাটতে থাকলো তাদের দিন প্রেম ভালোবাসায়।
অ্যাপোলোর এক বছর পূর্ণ হলো। সময় হলো ফিরে যাবার অলিম্পাসে। যাওয়ার সময় ভাবলো বন্ধু অ্যাডমিটাসের একটা উপকার করে দিয়ে যাই। ভাগ্যদেবীর সাথে অ্যাপোলোর বেশ খাতির ছিলো, তাকে জিজ্ঞেস করে জেনে নিলো অ্যাডমিটাসের মৃত্যুর সময় এবং কিছু তথ্য। বিদায়ের সময় অ্যাডমিটাসকে অ্যাপোলো বলে গেলো, ‘বন্ধু তোমার মৃত্যুর সময় যদি তোমার হয়ে অন্য কেউ প্রাণ দেয় তবে তুমি পাবে অমরত্ব।’ এই জানিয়ে ফিরে গেলো অ্যাপোলো।
রাজ্য, প্রজা আর অ্যালসেস্টিসকে নিয়ে রাজা অ্যাডমিটাসের বেঁচে থাকার দিনগুলো হয়ে উঠলো চমৎকার। সুখের সময় নিমিষে ফুরায়। দেখতে দেখতে চলে এলো অ্যাডমিটাসের মৃত্যুর দিন। যমদূতও এসে হাজির প্রাণ নিতে। কিন্তু কেউই তো রাজী নয় নিজের প্রাণ অ্যাডমিটাসের জন্য দিয়ে দিতে। অ্যাডমিটাস মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হলো। কিন্তু একি! যমদূত অ্যাডমিটাসের নয়, অ্যালসেস্টিসের প্রাণ নিয়ে চলে যেতে থাকলো মৃত্যুপুরীর দিকে। পতিব্রতা অ্যালসেস্টিসই স্বামীর জীবনের জন্য নিজের জীবন মৃত্যুর হাতে তুলে দিতে দ্বিধা করেনি। কিন্তু অ্যাডমিটাস কী করবে তার জীবন দিয়ে যদি অ্যালসেস্টিসই পাশে না থাকে। ভাগ্য ভালো রাজা অ্যাডমিটাসের আর এক বন্ধু বীর হারকিউলিস তখন ছিলো রাজপ্রাসাদে রাজার অতিথি হয়ে। সব শুনে হারকিউলিস যমদূতকে আহ্বান করলেন মল্লযুদ্ধে। যদি মল্লযুদ্ধে যমদূত হারকিউলিসকে হারিয়ে দিতে পারে, তবেই সে অ্যালসেস্টিসকে নিয়ে যেতে পারবে, নয়তো না।
যমদূত ভাবলো মামুলি মানুষ তার সাথে পারবে! কিন্তু হারকিউলিস যে দেবরাজ জিউসের পুত্র। হেরে গেলো যমদূত। আর রেখে গেলো অ্যালসেস্টিসের প্রাণ। আর নিজের প্রাণ স্বেচ্ছায় শঁপে দেয়ার সাহস দেখিয়ে অ্যালসেস্টিস পৃথিবীতে আদর্শ হয়ে রইলেন পতিব্রতা স্ত্রী হিসেবে।
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.