রফিকুল ইসলাম সাগর 
সাময়িকী.কম

প্রতিবছর বর্ষাকাল এলেই ঢাকার রাস্তায় শুরু হয় খোড়াখুড়ির কাজ। বেড়ে যায় রাজধানী বাসীর ভোগান্তি। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে ডুবে যায় রাস্তা। কোথাও কোথাও রাস্তা রূপ পরিবর্তন করে নদীতে পরিনত হয়। নেই পানি নিস্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। খোড়াখুড়ির কাদায় মাখামাখি। পায়ে পায়ে কাদার ছড়াছড়ি অবস্থা সইতে হয় নীরবে। চলাচলের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা ছাড়াই এ খোড়াখুড়িতে অচল হয়ে পড়ে জনজীবন। অথচ দেখার যেন কেউ নেই। 'উন্নয়ন কাজ চলছে। সাময়িক অসবিধার জন্য দুঃখিত।' এমন সাইন বোর্ড সাটিয়েই যেন দায় শেষ।

এ মাসের শুরু থেকে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় চলছে ওয়াসার পানির লাইন নতুন করে বসানোর কাজ। এ এলাকার বাসিন্দারা মনে করছেন এমন কাজ ভোগান্তি ছাড়া আর কিছুই না। 

১৪ আগস্ট বৃহস্প্রতিবার মহাখালীর হাজারী বাড়ি এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তা বন্ধ করে চলছে পানির পাইপ বসানোর কাজ। মাটি খুড়ে অন্যত্র না সরিয়ে রাস্তাতেই রাখা, তার সাথে পানির পাইপ দুইয়ে মিলে দখল গোটা রাস্তা। পথচারীদের পথ চলতে হচ্ছে কাদামাটির ওপর দিয়ে। এ এলাকার অধিকাংশ চিপা-চাপা অলি-গলিতেও মাটি খুড়ে চলছে ওয়াসার কাজ। এসব গলিতে হাটাতো দূরের কথা ঘর থেকেই বেরুতে পারছেন না অনেক বাসিন্দারা। রাস্তায় কোথাও কোথাও পানি জমে থাকার চিত্রও দেখা গেছে। সব মিলিয়ে প্রায় অচল জীবন পার করছেন এলাকাবাসী। গত দু'দিনের টানা বৃষ্টিতে ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়ে আরো ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

ভুক্তভোগী হাজারী বাড়ি এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত গাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'প্রতিবছর বর্ষাকাল এলেই খোড়াখুড়ি শুরু হয়। দীর্ঘমেয়াদী কাজ করলেইতো হয়। অথবা এই কাজ আগে পরে করলেই তো হয়। এমনেই বৃষ্টির দিন। এমন অবস্থায় মানুষ ক্যামনে চলবে। এদিক দিয়ে তো তাও কোনো রকম যাওয়া যায়, ওদিক দিয়ে তো একেবারেই যাওয়া যায়না (হাত উচু করে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বলেন)।' তিনি এই চরম দুর্ভোগ থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। 

শাহাদাত গাজী আরো জানিয়েছেন, এ এলাকার জি.পি.গ-৯০ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা বশির একদিন আগে খোড়াখুড়ির কারণে কাদায় পড়ে গিয়ে পায়ে মারাত্নক আঘাত পেয়েছেন। এ নিয়ে ওয়াসার লোকজনদের সাথে কথা কাটাকাটি হয় এলাকাবাসীর। একই দিনে কাদায় পা ফিচলে পড়ে গিয়ে পায়ে মারাত্নক আঘাত পেয়ে আহত হয়েছেন মহাখালী ওয়ারলেছ গেট বড় মসজিদের ময়াজ্জিম।

ভুক্তভোগী আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা জামাল হোসেন বলেছেন, আগেই আমরা ভালো ছিলাম। কি কাম শুরু করছে, আমার বাসার পানির লাইন নাই দু'দিন হইল। রাস্তায় পেকের (কাদা) ডরে ঘর থেইকা বাইরন যায় না। কি কাম করে বুঝিনা। খালি পয়সা খাওয়ার ফন্দি।

নতুন করে পানির পাইপ বসানোর ব্যাপারে হাজারী বাড়ি এলাকায় কথা হয় একজন ওয়াসা কর্মকর্তার সাথে। তিনি বলেন, বর্ষাকাল এলেই রাজধানীতে পানির সমস্যা দেখা দেয়। তাই এ সময়েই খোড়াখুড়ি করতে হয়। আমরা কি করব! যখন বিল পাশ হয় তখনই আমরা কাজ করি। তবে এবার যে পানির পাইপ বসানো হচ্ছে তা দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্পের মধ্যে পড়ে। আশা করি এরপর বছর বছর আর ওয়াসার কাজে রাস্তা খোড়াখুড়ি হবেনা। 

অন্যদিকে একই দিনে মহাখালী আমতলী দুই নম্বর রোডে গিয়ে দেখা গেছে, ভিন্ন ভিন্ন স্থানে মাটি খুড়ে গর্ত করে রাখা। ওয়াসার কোনো কর্মীকে কাজ করতে দেখা যায়নি। প্রতিটি গর্তের সামনে সাইন বোর্ড রাখা। যাতে লেখা রয়েছে, 'ওয়াসার উন্নয়ন কাজ চলছে। সাময়িক অসবিধার জন্য দুঃখিত--কর্তিপক্ষ।' রাস্তার দুই ভাগের এক ভাগে গর্ত করায় এক ভাগে গাড়ি চলাচলে ঘনঘন অস্বাভাবিক যানজটের সৃষ্টি হতে দেখা গেছে। 

আমতলী দুই নম্বর রোডের প্রবেশ মুখেই সাউথ পয়েন্ট স্কুল ও কলেজ। এখানে স্কুলটির নিজস্ব কোনো পার্কিং ব্যবস্থা দেখা যায়নি। রাস্তাতেই গাড়ি দাড় করিয়ে শিক্ষার্থীদের উঠা-নামা করার দৃশ্য চোখে পরেছে। স্কুল কার্যক্রম শুরু ও ছুটির সময়ে রাস্তাটি অতিরিক্ত ব্যস্ত থাকে।  

এ এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, সাউথ পয়েন্ট স্কুলটির কারণে এমনেতেই প্রতিদিন যানজট হয়। তার সাথে যোগ হয়েছে খোড়াখুড়ি। দুইয়ে মিলে তাদের পোহাতে হচ্ছে অসহনীয় ভোগান্তি। এ ভোগান্তি থেকে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন মহাখালী আমতলী বাসী।

ছবি : রফিকুল ইসলাম সাগর 

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.