রফিকুল ইসলাম সাগর

সাময়িকী.কম
দেশের মোবাইল সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো নানান কৌশলে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। তাদের প্রতারণাগুলো বেশিরভাগ গ্রাহক বুঝতেই পারে না। প্রতিদিন পত্র-পত্রিকায়, টিভি চ্যানেলে আমরা সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের লোভনীয় নানান অফারের বিজ্ঞাপন দেখতে পাই। বন্ধ সংযোগ চালু করলে বোনাস, নির্দিষ্ট পরিমান টাকা রিচার্জে বোনাস সহ আরো অনেক বিজ্ঞাপন যা গ্রাহকদের আকর্ষণ করে। কিছু কিছু অফারের ক্ষেত্রে এমন হয় যে, বিজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় এই অফার চলবে নির্দিষ্ট দিন পর্যন্ত। কিন্তু নির্দিষ্ট দিনের আগেই কোনো রকমের বিজ্ঞাপন ছাড়াই অফার বন্ধ করে দেয়া হয়। গ্রাহক বোনাস পাওয়ার আশায় টাকা রিচার্জ করে বোনাস না পেয়ে যখন কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে তখন তাকে শুনতে হয়, দুঃখিত স্যার আমাদের এই অফারটি বিজ্ঞাপনে প্রকাশিত সময়সীমার আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সেই মুহুর্তে গ্রাহকের হতাশ হওয়া ছাড়া কিছুই করার থাকেনা। সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এমন অনেক প্রতারণা গ্রাহকদের সাথে করছে যার প্রতিরোধ কেউ করছে না।
সবাই নিজ নিজ ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। একজন সচেতন মানুষ তার নিজ মোবাইল ফোনে অনাকাংখিত কল বা মেসেজ কখনই কামনা করেন না। তারপরেও আমাদের সবার নম্বরে প্রতিদিন কাস্টমার কেয়ার থেকে নানান অপ্রয়োজনীয় মেসেজ পাঠানো হয় এবং কল করা হয়। মানুষের মন-মানসিকতা সব সময় এক রকম থাকেনা। অনেক সময় এই অপ্রয়োজনীয় মেসেজ বা কল খুব বিরক্তির কারণ হয়ে দাড়ায়।
কাস্টমার কেয়ার থেকে অনেক সময় নিজেদের অফার ছাড়াও অনান্য প্রতিষ্ঠানের অফারের মেসেজ পাঠানো হয়, রেকর্ডিং কল করে জানানো হয়। সময়ে অসময়ে রেকর্ডিং কল রিসিভ করলে রেকর্ড করা সংক্ষিপ্ত কিছু কথা শোনা যায়। ‘অমুক তারকার সাথে আড্ডা, তমুক অফার, নতুন সার্ভিস, এটা-সেটা নানান কিছু– রাজি থাকলে এক চাপুন না থাকলে দুই চাপুন, চার্জ প্রযোজ্য, বিস্তারিত জানতে কল করুন কাস্টমার কেয়ারে।’ কতো টাকা চার্জ কাটবে তার বর্ণনা সংক্ষিপ্ত বার্তায় বলা হয় না। ফলে দেখা যায় গ্রাহক যখন ‘এক’ চাপে তখন তার ধারণার বেশি টাকা কেটে নেয়া হয়। পরবর্তিতে এই সার্ভিস বন্ধ না করা পর্যন্ত মোবাইলের ব্যালেন্স থেকে টাকা কেটে নেয়া হতেই থাকে। এরকম অনেক সেবা গ্রহণ করে গ্রাহককে পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। পোহাতে হয় ভোগান্তি।
সার্ভিস একটিভ করার জন্য তো গ্রাহককে মেসেজ দিয়ে এবং কল করে জানানো হয় কিন্তু সার্ভিস কিভাবে বন্ধ করতে হবে তা জানানো হয় না। সবই গ্রাহকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার ফন্দি। কিছু বোনাস এমন, ব্যালেন্সে বোনাস যোগ হয়েছে পাচ’শ মিনিট। যার মেয়াদ একদিন। কল করা যাবে শুধু নিজ অপারেটরের নম্বরে। তাহলে এই বোনাস শেষ করতে হলে অবশ্যই সারাদিন মোবাইলে কথা বলতে হবে। এমন বোনাস দেয়ার চেয়ে না দেয়াই ভালো। এটা গ্রাহকের সাথে মজা করা বলে মনে করি। বর্তমানে বেশিরভাগ অফার/বোনাস এমন যা গ্রাহকদের বড় ধরনের উপকারে আসে না। কিছু অফার নষ্ট করছে তরুণ প্রজন্মকে।


কিছু মুহুর্তে প্রয়োজনে কাস্টমার কেয়ারে কল করে লাইন পাওয়া যায় না। মিনিটের পর মিনিট ওয়েটিংযে থেকে শুনতে হয় সব ক’টি লাইন ব্যস্ত আছে। কল করে তাদের ব্যস্ততায় টাকা গুনতে হয় গ্রাহকের। অনেক গ্রাহকের ওয়েটিংযে থেকেই ব্যালেন্স শূন্য হয়ে যায় সমস্যার সমাধান পায় না। এমন পরিস্তিতিতে পরবর্তিতে গ্রাহককে কল করে তার সাহায্য কামনার কথা জানতে চাওয়া হয় না। যেহেতু একজন গ্রাহককে সাহায্যের জন্য কাস্টমার কেয়ারে কল করে প্রতি মিনিটের জন্য টাকা গুনতে হয় তাই গ্রাহককে ওয়েটিংযে রাখা যুক্তিসঙ্গত না। ইন্টারনেট নিয়েও গ্রাহকদের সাথে হচ্ছে প্রতারণা। প্রাপ্ত স্প্রিড নিয়ে করা হয় লুকোচুরি। এসব থেকে কি আমরা কোনদিন মুক্তি পাব?

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.