সাময়িকী.কম

নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুনের ঘটনার প্রধান আসামি কাউন্সিলর নূর হোসেনের কথিত স্ত্রী নারী কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা দুই মাস কারাভোগের পর বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। 

একটি হত্যা মামলায় গত ২৬ মে গ্রেফতার হওয়ার পর হাইকোর্ট থেকে জামিনপ্রাপ্তি সাপেক্ষে বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগার সূত্র জানিয়েছে,  নীলা বৃহস্পতিবার জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।

গত ২৬ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের করা জুয়েল হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ জান্নাতুল ফেরদৌস নীলাকে গ্রেফতার করে। ইতোমধ্যে, তাকে দুই দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ ও সিআইডি।

২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর সিদ্ধিরগঞ্জের জালকুড়ি এলাকা থেকে জুয়েল নামে এক ব্যক্তির দেহ ও পরে মাথা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পরদিন ২৭ অক্টোবর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিন্নাহ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে গ্রেফতার হওয়া এক আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এতে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নীলা জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দেয়। কিন্তু, তখন নূর হোসেনের প্রভাবের কারণে পুলিশ নীলাকে গ্রেফতার করেনি।

উল্লেখ্য, নূর হোসেন ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জান্নাতুল ফেরদৌস নীলা ছিলেন সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর। ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পর থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আবাসিক হোটেলে একত্রে রাত্রিযাপন ও ভারত ভ্রমণ করেন তারা। কিন্তু নূর হোসেন বিয়ে করতে না চাইলে গত বছরের ২৮ মে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সামনে তুলকালাম কাণ্ড ঘটায় নীলা। থানার ভেতরে ও বাইরে অস্বাভাবিক আচরণের পাশাপাশি তিনি নিজেই ইট দিয়ে আঘাত করে নিজের হাত কেটে ফেলেন। পরে রাস্তায় চলন্ত গাড়ির নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে।

নীলা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, নূর হোসেন তাকে ‘রক্ষিতা’ বানাতে চেয়ে ছিলেন। নূর হোসেন তাকে ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের গাড়ি উপহার দেয়। পরে  তাকে ‘রক্ষিতা’ বানাতে না পেরে তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেন। সে কারণে তার স্বামীর জীবন বাঁচাতে তিনি স্বামীকে ডিভোর্স দেন। 
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.