সাময়িকী.কম
জনগণকে জিম্মি করে এই সরকার ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতেই বিচারকদের অভিশংসনের (অপসারণ) ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে অবিস্থত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ ছাত্র ফোরাম ও উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, প্রশাসনের পর এবার বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করার গভীর ষড়যন্ত্র করছে সরকার। বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারি পর্যায়ে আলোচনার প্রতি ইঙ্গিত করে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করেছে। এখানেও এত কৌশল অবলম্বন করেছে যে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রহসনে পরিণত করেছে।’

এসময় তিনি বলেন, ‘যে সংসদ জনপ্রতিনিধিত্বশীল বলতে পারি না, ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নিয়ে সরকার গঠন করা হয়েছে, এটা আমরা সরকার বলতে পারি না। যে সংসদ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না সে সংসদ এ ধরনের এক আইন পাস করতে পারে না।’

১৯৭২ সালের সংবিধানে ‘বিচারকদের পদের মেয়াদ’ শীর্ষক ৯৬ অনুচ্ছেদে ২ দফায় বলা হয়, ‘প্রমাণিত ও অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার অন্যূন দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা দ্বারা সমর্থিত সংসদের প্রস্তাবক্রমে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতির আদেশ ব্যতীত কোনো বিচারককে অপসারিত করা যাইবে না। উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে দেওয়ার বিষয়টি জোরেশোরে আলোচনায় আসে আওয়ামী লীগের গত সরকারের মেয়াদে।

আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসনে বিশ্বাসী বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একদলীয় শাসনে বিশ্বাস করে। ’৭২ থেকে ’৭৫ সালের দিকে তাকালে দেখা যায়, তারা বলেছিলেন, এক নেতার এক দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ। আজকে ভিন্ন আঙ্গিকে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়।’

আন্দোলন শুরু হয়ে গেছে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি। বিএনপির এই নেতা বলেন , ‘চুপ করে থাকার কোনো কারণ নেই। আন্দোলন শুরু হয়েছে। এ আন্দোলনকে সামনের দিকে এ গিয়ে নিতে হবে।’

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘নতুন মামলা দিয়ে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে রাজনীতিতে থেকে দূরে রেখে ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায়।

ইফতার মাহফিলে উপস্থিত উত্তরাঞ্চলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘শক্তিশালী আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে বাধ্য করা হবে।’

উত্তরাঞ্চল ছাত্র ফোরামের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, তথ্য গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হবীবুর রহমান হাবীব, ঢাকা মহানগীর নবনির্বাচিত সদস্য সচিব হাবীব উন নবী খান সোহেল, সংগীতশিল্পী বেবী নাজনীনসহ সংগঠনের নেতারা।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.