সাময়িকী.কম
আমাদের মস্তিষ্ক আসলে কতটা জটিল? যদি বিভিন্ন বিজ্ঞানীর জ্ঞানের বহর দেখে মুগ্ধ হয়ে থাকেন, যদি শিল্পীর প্রতিভা দেখে মুগ্ধ হয়ে থাকেন তবে জেনে রাখুন, মস্তিষ্কের ক্ষমতা এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। বিভিন্ন মানসিক জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের হ্যালুসিনেশন থেকে বোঝা যায় আসলেই মস্তিষ্ক কতটা অদ্ভুত, কতটা জটিল।
হ্যালুসিনেশনের বর্ণনা শুনে মনে হয় তারা রোগীর মনে ঘোরাফেরা করা কিছু আজেবাজে ছবি, অথবা অসংলগ্ন কিছু চিন্তা। কিন্তু অনেক সময়েই দেখা যায়, অনেক মানুষ একই হ্যালুসিনেশন দেখছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সাথে এমন অনেক হ্যালুসিনেশনের রহস্য উদ্ঘাটন করা গেছে, কিছু আবার রয়ে গেছে অজানা। বাস্তবতা থেকে যখন মস্তিষ্ক মুখ ঘুরিয়ে নেয়, তখন জন্ম নিতে পারে অপার্থিব কিছু হ্যালুসিনেশন। আসুন, আজ জানি অত্যন্ত রহস্যময় ৭টি হ্যালুসিনেশন সম্পর্কে।

১) অ্যালিস ইন ওয়ান্ডারল্যান্ড সিনড্রোম

সময় এবং স্থানের অস্বাভাবিক বিচ্যুতি হলো এই সিনড্রোমের লক্ষণ। সাধারণত রোগীরা নিজেদের শরীরের বিভিন্ন অংশ স্বাভাবিকের চাইতে অনেক বড় বা ছোট হতে দেখে থাকেন। অনেক সময় তাদের আকৃতিও ভিন্ন হতে দেখা যায়। সময়ের ক্ষেত্রেও দেখা যায় বিচ্যুতি।
এই দুর্লভ লক্ষণটি দেখা যায় কিছু ভাইরাল অসুখ, মৃগী রোগ, মাইগ্রেইন এবং কিছু ব্রেইন টিউমারের কারণে। একে টড’স সিনড্রোম ও বলা হয়।

২) ওয়াকিং কর্পস সিনড্রোম

একে কটার্ড’স সিনড্রোমও বলা হয়। রোগীরা মনে করেন তারা মৃত অথবা মারা যাচ্ছেন বা তাদের শরীরের ভেতরের কিছু অঙ্গ জায়গামতো নেই। এটা প্রথম দেখা যায় ১৮৮০ সালে এক নারীর মাঝে, জিনি বিশ্বাস করতেন তার মস্তিষ্ক বা নাড়িভুঁড়ি কিছু নেই এবং তার খাওয়া দাওয়া করার দরকার নেই। তার বিষণ্ণতা এবং সাইকোসিস এর সমস্যা ছিলো। খাওয়া বন্ধ করে দিয়ে মারা যান তিনি। এছাড়াও সিজোফ্রেনিয়া, মস্তিষ্কের আঘাত এবং মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস এর কারণে এই হ্যালুসিনেশনটি দেখা যায়।

৩) চার্লস বনেট সিনড্রোম

যেসব মানুষ কোনোভাবে অন্ধ হয়ে গেছেন, তাদের মাঝে এই হ্যালুসিনেশন হতে দেখা যায়। তারা হঠাৎ করেই “দেখতে” পান বেশ স্পষ্ট কোনো দৃশ্য যা আসলে বাস্তব নয়। এ ধরণের হ্যালুসিনেশনে তারা দেখে থাকেন মানুষের মুখ, কার্টুন, রঙ্গিন নকশা ইত্যাদি। ধারণা করা হয় তাদের মস্তিষ্ক যেহেতু চোখ থেকে আর কোন নির্দেশনা পাচ্ছে না তাই সে নিজেই তৈরি করে নিচ্ছে বিভিন্ন দৃশ্য।

৪) ক্লিনিক্যাল লাইক্যানথ্রপি

খুব দুর্লভ এই জটিলতায় মানুষ মনে করে তারা নেকড়ে বা অন্য কোনো প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। তারা নিজেদের শরীরের ব্যাপারে ভ্রমে থাকেন এবং মনে করেন তাদের শরীর ভরে যাচ্ছে পশমে, গজিয়ে উঠছে নেকড়ের ধারালো দাঁত এবং নখ।
এ ছাড়াও জানা যায় মানুষ নিজেদের কুকুর, শূকর, ব্যাং এবং সাপ বলে হ্যালুসিনেশনে ভুগে থাকে। সিজোফ্রেনিয়ার সাথে আরও কিছু মানসিক জটিলতার মিশ্রনে এই হ্যালুসিনেশনের উৎপত্তি হয়ে থাকে।

৫) ক্যাপগ্রাস সিনড্রোম

এই হ্যালুসিনেশনে ভোগা মানুষের মনে হয়, তাদের কাছের কেউ একজন গুম হয়ে গেছে এবং তার জায়গা নিয়েছে নকল একজন মানুষ। সিজোফ্রেনিয়া, আলঝেইমার্স, পারকিনসন্স ডিজিজ, ডিমেনশিয়া ইত্যাদি রোগের কারণে এই জটিলতা দেখা যায়।

৬) ওথেলো সিনড্রোম

ওথেলো সিন্ড্রোমে ভোগা মানুষের বদ্ধমূল ধারণা হয়ে যায় তার জীবনসঙ্গী তার সাথে প্রতারণা করছে এবং অন্য কারো সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত আছে। তারা অনেক সময়ে এতই চিন্তিত থাকে এ ব্যাপারে যে তাদের মাঝে হিংস্র হয়ে ওঠার প্রবণতা দেখা যায়।

৭) একবম’স সিনড্রোম

একবম’স সিনড্রোম বা ডিল্যুশনাল প্যারাসাইটোসিস বা ডিল্যুশনাল ইনফেস্টেশনের রোগীরা বিশ্বাস করে থাকেন যে তাদেরকে আক্রমণ করেছে এমন সব কীট যারা কিলবিল করে বেরাচ্ছে তাদের চামড়ার নিচে। প্রচন্ড ভীতিকর এই হ্যালুসিনেশনে ভোগা মানুষদের ধারণা হয় তাদের শরীরে কিছু কামড়াচ্ছে বা চুলকাচ্ছে ক্রমাগত। এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে তারা অনেক সময় নিজের শরীরে সৃষ্টি করে থাকেন ক্ষত।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.