সাময়িকী.কম
ইরাক আক্রমণ করার জন্য তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রপতি জর্জ ডব্লিউ বুশ ও কোয়ালিশন বাহিনী যে কারণ দেখিয়েছিল তা হল: ইরাক ১৯৯১ সালের চুক্তি অমান্য করে গণবিধ্বংসী অস্ত্র নির্মাণ করছে এবং তাদের কাছে এ ধরণের অস্ত্রের মজুদও আছে। তবে ইরাক আগ্রাসনের পরে পরিদর্শকরা ইরাকে গিয়ে কোন ধরণের গণবিধ্বংসী অস্ত্র খুঁজে পায়নি। তারা জানায়, ইরাক ১৯৯১ সালেই গণবিধ্বংসী অস্ত্র নির্মাণ ত্যাগ করেছে, ইরাকের উপর থেকে আন্তর্জাতিক অনুমোদন সরিয়ে নেয়ার আগ পর্যন্ত তাদের নতুন করে গণবিধ্বংসী অস্ত্র নির্মাণের কোন পরিকল্পনাও ছিল না। এগুলোর জন্য মার্কিন বাহিনী ইরাক আক্রমণ করেনি। কোন কোন মার্কিন কর্মকর্তা দাবী করেন যে, সাদ্দাম হোসেন আল-কায়েদাকে সহযোগিতা করছেন, কিন্তু এর পক্ষেও কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তার পরও আগ্রাসনের কিছু কারণ দেখানো হয়েছে। যেমন: ফিলিস্তিনের আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করা, ইরাকী সরকার কর্তৃক মানবাধিকার লংঘন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং ইরাকের তেল সম্পদ অধিগ্রহণ করা। অবশ্য সর্বশেষ কারণটির কথা মার্কিন কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।
আগ্রাসী বাহিনী আক্রমণ করার পরপরই ইরাকী সামরিক বাহিনী পরাজিত হয়। রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হোসেন পালিয়ে বেড়ায়, অবশেষে ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে তাকে আটক করা হয়। ২০০৬ এর ডিসেম্বরে সাদ্দামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মার্কিন কোয়ালিশন বাহিনী ইরাক দখল করে সেখানে একটি গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের চেষ্টা চালায়। কিন্তু আগ্রাসনের পরপরই কোয়ালিশন বাহিনীর বিরুদ্ধে এবং ইরাকের বিভিন্ন পন্থী দলগুলোর মধ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে অপ্রতিসম বিভিন্নমুখী আক্রমণের মাধ্যমে ইরাকী অভ্যুত্থানের সূচনা ঘটে। সুন্নি এবং শিয়া দলগুলোর মধ্যে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় এবং আল-কায়েদা ইরাকে তাদের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করে। এই যুদ্ধে মৃতের সংখ্যা আনুমানিক ১৫০,০০০ থেকে ১০ লক্ষের বেশী। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে ৮৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের চেয়েও বেশী, আর যুক্তরাজ্যের ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪.৫ বিলিয়ন ইউরো। উল্লেখ্য এই সময়ে মার্কিন অর্থনীতির মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৩ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে।
যুগ যুগ ধরে জাতিতে জতিতে চলে আসা যুদ্ধ কখনোই মঙ্গল বারতা নিয়ে আসেনি শুধু মুক্তিযুদ্ধ ছাড়া। তারপরও যুদ্ধপ্রিয় শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো চাপিয়ে দিচ্ছে যুদ্ধ। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে কোন একনায়ককে সরিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিরোধীদলের সহযোগিতায় নতুন ধরণের এ সাম্রাজ্যবাদের শেষ কোথায় আমরা জানি না। আসুন দেখি ইরাকে দীর্ঘ এগারো বছর ধরে চলে আসা যুদ্ধ পরিস্থিতির কিছু স্থির চিত্রের প্রথম পর্ব:
১। কিরকুক ছেড়ে যাচ্ছেন শরণার্থিরা। ১৮ মার্চ, ২০০৩ এ ছবিটি তোলেছেন Chang W. Lee।
২। মার্কিনীদের তেলক্ষেত্রগুলোর প্রতি নজর ছিলো অন্যরকম। এক তেল ক্ষেত্রে আগুল লেগে যাওয়ার ছবিটি তুলেছেন Hyoung Chang।
৩। ছেলেহারা মায়ের কান্না। মে ১৪, ২০০৩ হিল্লা থেকে ছবিটি তুলেছেন Mario Tama।
৪। এক ইরাকি শিশু লাফিয়ে পার হচ্ছে লাশের সারি। ছবিটি তুলেছেন Marco Di Lauro।
৫। কালো মুখোশে ঢেকে রাখা এক ইরাকিবন্দী হয়তো শেষবারের মতোই সন্তানের ললাটে আদর মেখে দিয়েছিলেন। ছবিটি তুলেছেন Jean-Marc Bouju।
৬। আবু গারিব কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর দুই ইরাকি। ছবিটি Brent Stirton এর তোলা।
৭। এক বৃদ্ধা বসে আছেন। অথচ নিকটেই বিস্ফোরিত হয়েছে গাড়ি বোমা। ভয়াবহতা দেখে দেখে কেমন যেন পাথর হয়ে আছেন। Ghaith Abdul-Ahad এর তোলা ছবি।
৮। ৫ বছর বয়সী সামার হাসানের চোখের সামনে বাবা-মাকে মেরে ফেলেছে। সামারের কান্নায় পাথর গলে যায়। গলেনি যুদ্ধমানুষের মন। ছবিটি Chris Hondros এর তোলা।
৯। যুদ্ধে নিহত সেনার প্রেয়সীর কান্না। ছবি: John Moore।
১০। আহত মা ও সন্তান। ছবি: Emad Matti।
১১। মার্কিন সেনা আর ইরাকি কিশোরী। যুদ্ধ বনাম শান্তি। ছবি: Hyoung Chang।
১২। কিশোরীর কান্নাভাঙ্গা চোখ দুটির ভাষা কি বোঝে না পৃথিবী? ছবি: Odd Andersen।
১৩। পিতাকে ফিরে পেয়ে পুত্রের আবেগের কান্না। Khalid Mohammed এর তোলা।
১৪। সাদ্দাম হোসেনের প্রেসিডেন্ট পেলেসের গোলাপি বেডরুমের ছবি তুলছেন এক মার্কিন সেনা। তার এই ছবিটি তোলেছেন Romeo Gacad।
১৫। বিলিভ ইট অর নট। বুশ কাঁদছে। যুদ্ধে নিহিত মার্কিন এক সেনার মায়ের কান্না দেখে। ছবিটি তুলেছেন Jim Bourg।
তথ্য ঋণ: উইকিপিডিয়া

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.