সাময়িকী.কম
এডভেঞ্চার ভ্রমণ কি পছন্দ? তবে চলুন ঘুরে আসি এডভেঞ্চার স্বর্গ আলুটিলার রহস্যময় গুহায়। স্থানীয়রা একে বলে মাতাই হাকড় বা দেবতার গুহা।
খাগড়াছড়ি শহর হতে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা পযর্টনকেন্দ্রে রয়েছে এই রহস্যময় গুহা। আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রে অবস্থিত বলে আলুটিলা গুহা নামেই এর পরিচিতি।
রহস্যময় গুহা
বিশাল দুটি বটবৃক্ষ শতবর্ষ ধরে প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গুহার দ্বারপ্রান্তে। প্রহরীর দু-দিকে দুটি রাস্তা। এক রাস্তায় আপনি চলে যাবেন রহস্যময় গুহায় আর আরেকটি যাবে সরু পাহাড়িপথ ধরে অপরূপ এক ঝর্না ধারায়।
গুহার মুখে একটি বিশ্রামাগার। সোজা একটি পথ গিয়ে মিলেছে গুহার মুখে। যাত্রা হলো শুরু...
গুহায় প্রবেশের পূর্বে অবশ্যই মশাল অথবা মাথার হেডলাইট ওয়ালা ক্যাপ সাথে করে নিতে হবে। কেননা গুহার ভিতরে সূর্যের আলো বিন্দুমাত্রও পৌছায় না। ধাপে ধাপে ৩৪০টি সিড়ি বেয়ে নিচে নামলে দেখা মিলবে এই রহস্যময় গুহার।
আলো-আঁধার লুকোচুরি
ভেতরে ঢোকার পর যে কারোরই গায়ে কাটা দিতে বাধ্য। তাই ভীত না হয়ে ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
এই মাতাই হাকড় বা দেবতার গুহা দেখতে অনেকটা ভূগর্ভস্থ টানেলের মত যার দৈর্ঘ প্রায় ৩৫০ ফুট। গুহার ভীতরে জায়গায় জায়গায় পানি জমে আছে, রয়েছে বড় বড় পাথর। মাঝে মাঝে উচ্চতা এতটাই কম হয়ে যায় যে নতজানু হয়ে হাটতে হবে। জীবজন্তুর ভয় না থাকলেও ঝর্না প্রবাহিত হওয়ার কারণে অতিরিক্ত সাবধানতা অবলম্বন করতেই হবে। গুহার এপাশ থেকে ওপাশে যেতে সময় লাগে মোটামুটি ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মতো।
প্রকৃতির অদ্ভুত সৃষ্টি
আলুটিলার এই মাতাই হাকড় বা দেবতার গুহা সত্যিই প্রকৃতির অদ্ভুত সৃষ্টির একটি। সারা বছরই দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত থাকে পর্যটনকেন্দ্র আলুটিলা। দৃষ্টিনন্দন ও রহস্যঘেরা দৃশ্যের কারণেই পর্যটকদের নিকট খুবই পছন্দনীয়।
যাওয়া ও থাকাঃ
খাগড়াছড়ি শহর হতে ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে মাটিরাঙ্গা উপজেলার আলুটিলা পযর্টনকেন্দ্রের অবস্থান। ঢাকা থেকে আসার জন্য ফকিরা পুল , সায়দাবাদ , কলাবাগান থেকে বিআরটিসি, এস.আলম সার্ভিস, শ্যামলী পরিবহন, ঈগল পরিবহন, সৌদিয়া প্রভৃতি বাস রয়েছে। তারপর খাগড়াছড়ি শহর শহর থেকে লোকাল বাসে আলুটিলা। আলুটিলা মাটিরাঙ্গাতে থাকার জন্য পর্যটন মোটেল, হোটেল শৈল সুবর্ণা ছাড়া আরও কিছু জায়গা রয়েছে।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.