সাময়িকী.কম
যদি আপনি মনে করে থাকেন বিয়ে করে আপনি নিজের অপূর্ণতা দূর করতে পারবেন এবং হয়ে উঠবেন সম্পূর্ণ একজন মানুষ তবে আপনি ভুল ভাবছেন। কারণ আপনি নিজে যদি একজন স্বয়ংসম্পূর্ণ মানুষ না হন তবে অন্য একজনকে নিজের জীবনে জড়িয়ে কখনোই নিজেকে সম্পূর্ণ করতে পারবেন না। বরং এতে আপনি নিজের অপূর্ণ জীবনে অন্য আরেকজনকে যোগ করবেন।
তাই অন্যকে নিজের সাথে জড়ানোর আগে নিজেকে প্রশ্ন করে নিন, জেনে নিন আপনি নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ কিনা। নিজের মধ্যে কিছু জিনিসের খোঁজ করুন। দেখুন এই জিনিসগুলো আপনার মধ্যে আছে কিনা। তবেই আপনি জড়াতে পারবেন নিজের সাথে অন্য একজনকে। কেননা দাম্পত্যে সুখী হতে নিজের মাঝে এই বিষয়গুলো থাকা অত্যন্ত জরুরী!

নিজের মূল্য

আপনি নিজেকে কতোটা সম্পূর্ণ ভাবেন সেটা আপনার অনেক কিছুর ওপরে প্রভাব ফেলবে। আপনি নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবা মানে হলো আপনি অন্য আরেকজনকেও নিজের মতোই ভাববেন। এবং নিজে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার কারণে যে মানুষটির সাথে জড়াবেন তার অপর বেশি নির্ভরশীল থাকবেন না। এতে করে সম্পর্কে আশা থাকবে অনেক কম এবং আশা ভঙ্গের কষ্টও কম হবে।

সময়

আপনি বিয়ে করলেন, সব কিছুই ঠিকঠাক চলছে কিন্তু আপনি আপনার সঙ্গীকে সময় দিতে পারছেন না তাহলে আপনাদের মধ্যকার সম্পর্ক গভির হওয়ার সুযোগই পাবে না। সময় অনেক বড় একটি ব্যাপার। আপনার সঙ্গি অবশ্যই আপনার কাছ থেকে সময় আশা করবেন। তাই সময়ের দিকেও লক্ষ্য রাখবেন।

নিজের একটি বন্ধুমহল

অনেকেই ভাবতে পারেন বিয়ের সাথে বন্ধুমহলের প্রয়োজনীয়তা কি? কিন্তু আসলেই প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ভালো বন্ধু আপনার জীবনের সিদ্ধান্তে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। আপনার ভালো বন্ধুটি আপনার অনেক ভুল ধরিয়ে দিতে পারবেন যা অন্য কারো পক্ষে সম্ভব হয় না। আপনাদের অনেক ভুল বোঝাবোঝিরও অবসান হতে পারে বন্ধুদের মাধ্যমেই।

আর্থিক সচ্ছলতা

বিয়ের পূর্বে নিজের আর্থিক সচ্ছলতার দিকটিও বেশ ভালো করে খতিয়ে দেখা উচিত। কারণ বিয়ের পড়ে আপনার জীবনে আরও অনেক নতুন মানুষ যোগ হবেন যাদের প্রতি আপনার অনেক দায় দায়িত্ব থাকবে। সেই সকল দায় দায়িত্ব এবং চাওয়া পাওয়া পূরণের জন্য যে আর্থিক সচ্ছলতার প্রয়োজন তা বিয়ের পূর্বে বিবেচনায় আনা উচিত।

পূর্বের সম্পর্ক ভুলে যাওয়া

বিয়ের সম্পর্ক সাধারণত একটি চিরকালের বন্ধন হিসেবেই ধরে নেয়া হয়। এই সম্পর্কে সততার অনেক প্রয়োজন। মানুষের অতীত থাকতেই পারে। কিন্তু নিজে সৎ থেকে নিজের পূর্ববর্তি সকল ভুলগুলো ভুলে যেয়ে নতুন করে শুরু করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। তাই বিয়ের সম্পর্কে জড়ানোর আগে পূর্বের সম্পর্কগুলো ভুলে যাওয়াই মঙ্গল।

নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ

নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে কিনা একবার নিজেকে প্রশ্ন করে দেখুন। রেগে গেলে কিংবা আবেগি হয়ে গেলে আপনার কি নিজের ওপরে নিয়ন্ত্রণ থাকে নাকি তা ভেবে দেখুন। যদি না থাকে তবে সম্পর্কে যাবেন না। আগে নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনুন।

সমঝোতার মনোভাব

বিয়ের সম্পর্ক পুরোটাই দুপক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে এগিয়ে যায় গভীর হয়। এক পক্ষের ছাড় এবং সমঝোতায় কখনোই সুখি জীবন যাপন সম্ভব নয়। দুপক্ষের সমঝোতার মনোভাব থাকা সেকারণে খুবি জরুরী। তাই নিজের মনোভাব সম্পর্কে জানুন। সমঝোতায় বিশ্বাসী হোন।

পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের বাস্তব জ্ঞানের পরিধি

পরিবারের মানুষজনকে কতোখানি চেনেন আপনি? তারা কি বাস্তবধর্মী মনোভাব রাখেন? কারণ আপনার সাথে যিনি সম্পর্কে জড়াবেন তিনি আপনার পাশাপাশি আপনার পরিবারের সাথেও জড়াবেন। এখন সমস্যা হলো আপনার পরিবার তাকে কতটুকু বাস্তবতার সাথে গ্রহণ করবেন সেই বিষয়টি। তারা যদি তাকে ভালোবেসে আপন করে নেয়ার মনোভাব রাখেন তবেই আপনার বিয়ের সম্পর্কে জড়ানো উচিত। নতুবা নয়। কারণ এতে আপনার পরিবারের পাশাপাশি আপনার জীবনসঙ্গীও কষ্ট পাবেন।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.