সাময়িকী.কম
ডাইনোসর নিয়ে যুগে যুগে কালে কালে গবেষণা কিছু কম হয়নি আর এখনো হচ্ছে। বেশিরভাগ মানুষের চোখেই ডাইনোসর প্রাণীটি অত্যন্ত ভয়াবহ, কেননা বিভিন্ন সিনেমায় সেরকমটাই দেখে থাকি আমরা। এখন পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ধারণা এই যে বেশিরভাগ ডাইনোসরই ছিল তৃণ ভোজী। তবে তৃণভোজী হোক আর যাই হোক, এমন অতিকায় আকারের একটা প্রাণীকে ভয় পাওয়া স্বাভাবিক বৈকি। তাছাড়া বিজ্ঞানীরা স্বয়ং বলেন যেন এখন পর্যন্ত ডাইনোসরের সকল প্রজাতি সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। সনাক্তকরণের বাইরেই বরং রয়ে গেছে অধিকাংশ প্রজাতি।
সম্প্রতি উত্তর আমেরিকার ভূখণ্ডে খুঁজে পাওয়া গেল বিশালাকার মাংসাশী ডাইনোসরের জীবাশ্ম। টিরানোসরাস এক্স-এর থেকেও বড় ও হিংস্র এই প্রাণী হতে পারে ডাইনোসর রহস্য সমাধানের বড় হাতিয়ার। দীর্ঘ গবেষণার পর ডাইনোসরটির পরিচয় নিশ্চিত হয়েছেন গবেষকরা। এই জীবাশ্মটি যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা আদর করে এর নাম দিয়েছেন "আনজু ওয়াইলেই"- দ্যা চিকেন ফ্রম হেল।
জীবাশ্মটির মাথার আকৃতি অনেকটা পাখির মতো। এর দন্তবিহীন ঠোঁট রয়েছে। খুলিতে রয়েছে একটি অদ্ভুত ঝুঁটি। হাতে বড় ধারালো থাবা, দীর্ঘ পা এবং সেগুলো ছোট পালকে ঢাকা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উত্তর আমেরিকায় প্রায় এক শতক আগে এ ধরনের ডাইনোসরের একটি হাড় পাওয়া গিয়েছিল। তখন থেকেই ওই অঞ্চলে তাদের অনুসন্ধান চলছে। অন্তত ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে এদের অস্তিত্ব ছিল বলে জানান তারা।
আনজু ওয়াইলেই ১১ ফুট লম্বা, উচ্চতা ৫ ফুট আর ওজন ২০০ থেকে ৩০০ কেজি হতে পারে। একজন গবেষক জানিয়েছেন, একে বর্ণনা করার জন্য নরক থেকে আসা মুরগি বা ‘দ্য চিকেন ফ্রম হেল’ উপযুক্ত একটি নাম। সাধারণত ডাইনোসর বলতে যে চিত্রটি মানুষের চোখে ভেসে ওঠে, এটা তা থেকে একেবারেই ভিন্ন। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, ছোট ছোট পালক বিশিষ্ট এই ডাইনোসর থেকেই পূর্ণাঙ্গ পাখিদের রূপ বিকশিত হয়েছিল। যদিও প্রাচীন পাখির অস্তিত্ব অন্তত ১৫ কোটি বছর আগে পাওয়া যায়। তবে এই ডাইনোসরদের মেরুদণ্ডে বাতাস চলাচলের জায়গা রয়েছে এবং পায়ের হাড়ে আছে গর্ত। পালক সমৃদ্ধ ফসিল একেবারেই বিরল এবং ‘আনজু ওয়াইলেই’র মতো মস্তিষ্কের এমন গঠন আজ পর্যন্ত কোনো ডাইনোসরের ফসিলে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
তথ্য সূত্র- বিবিসি ইউকে
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.