নাজমুস সাকিব

বৃষ্টিবিদরা বলছেন

We are all different – but we share the same human spirit.
Perhaps it’s human nature that we adapt – and survive.
—Stephen Hawking

আমি কিছু অনন্ত আগুন চেয়েছিলাম। আমি চেয়েছিলাম— রোদগুচ্ছ
আমার প্রেমিকা হবে। ভালোবাসার হাত এসে স্পর্শ করবে আমার
চুল। আমার বুকের পশমে লাগবে মুক্ত হাওয়া। আমি ছুঁবো বৃষ্টি।

যে বৃষ্টি আমাকে অবারিত শান্তিতে ভেজাতে পারবে, আমি হতে
চেয়েছিলাম তার দোসর। যে মেঘ হতে পারবে আমার মাথার উপর
মৃদুছায়া— আমি তার ক্রীতদাস হয়ে বরণ করতে চেয়েছিলাম
বন্দীজীবন।সকল বিপত্তি অতিক্রম করে আমি সুসভ্য ভবিষ্যত খুঁজেছিলাম।

সভ্যতা আমাকে ধারণ করতে পারেনি। যেভাবে জাতিসংঘ ধারণ করতে
পারে না নির্যাতিত মানুষের রোদন। পাখি ও শিশুর আহাজারি একাকার
হয়ে গেলেও যারা অন্ধ হয়ে থাকে— শেষ পর্যন্ত আমাকে একা’ই দাঁড়াতে
হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

গাজায় বর্বরতম আগ্রাসনের প্রতিবাদে যেভাবে বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং
বয়কট করেছেন জেরুজালেম বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স,
আমি ঠিক সেভাবেই সকল আগ্রাসী-মহানায়কদের বিরুদ্ধে
পাঠাতে চাইছি কিছু অগ্নিবৃষ্টি। ওরা পুড়ে যাক, তছনছ হয়ে যাক
ওদের মসনদ। সর্বহারা শিশুদের চোখের জলে হোক নূহের প্লাবন।

আমি বৃষ্টি নিয়ে ভবিষ্যতবাণী করতে পারবো না।
তবে বৃষ্টিবিদরা বলছেন—
আকাশে যে মেঘ জমছে, তা একদিন অণুবৃষ্টি হয়ে ঝরবেই
ঐ সব হায়েনাদের গৃহে ও গরাদে।

গাজা ক্যাম্পের দিকে

ঝলসে যাওয়া মানবাকৃতি দেখে কাঁদছে মরুভূমি। বৃষ্টি নেই— রক্তের
প্রকার দেখে আঁতকে উঠছে পর্বতের চূড়া। কিছু ঘাতক নরকনৃত্য সেরে
শিশুদের মৃত মুখছবি নিয়ে করছে উল্লাস, কেউ তা দেখছে না ভেবে
ওরা ক্রমশঃ বাড়িয়েই যাচ্ছে দখলের রাজত্ব।

যে কবি ফিলিস্তিনি মানুষদের নিয়ে কবিতা লিখতে বসেছিলেন,
তার হাত আজ নিথর।
যে চিত্রক আঁকতে চেয়েছিলেন একজন প্রেমময়ী নারীর চাহনি,
তিনি হতে চাইছেন দেশান্তরি।
যে গায়ক ভেঙে যাওয়া বেহালা হাতে গাজা ক্যাম্পের দিকে
যেতে চেয়েছিলেন— রুদ্ধ করে দেয়া হয়েছে তার পথ।

সরু পথগুলো পাথরে মিশিয়ে দিতে দিতে খুনীরা
নিশ্চিহ্ন করতে চাইছে ফিলিস্তিনি মানুষের স্বাধীন
স্বদেশের স্বপ্ন। তারপরও কিছু বালক-বালিকা হাত উঁচু করে
বলছে— দেখে যাও বিশ্ববাসী! আমরা খুব ভালো আছি
রক্তাক্ত মাতৃনীড়ে!

আজ বিপন্ন আকাশের নাম ফিলিস্তিন

শিশুটি জানে না তার অপরাধ কি! বালক, যেতে চেয়েছিল স্কুলে
আর বালিকা মক্তবের পাঠ শেষ করে ফিরছিল ঘরে। উর্দি পরা সৈনিক
দেখে তারা দাঁড়াতে চায় না। ওদেরকে থামিয়ে দেয়া হয়। তারপর
টেনে-ছিঁছড়ে নিয়ে যাওয়া হয়, অজানা গন্তব্যে।
কী এক বেদনায় বিপন্ন আজ গোটা পৃথিবীর আকাশ! এই আকাশ কি
শুধু ঢেকে রেখেছে গাজা কিংবা জেরুজালেমের চৌহদ্দি! না কী এই
আকাশের ছায়া এসে লেগেছে ওয়াশিংটনেও !
এমন নারকীয় হত্যাযজ্ঞের আজ বিশ্বজুড়ে কোনো প্রতিবাদ নেই।
এমন খুনীদের বিরুদ্ধে আজ কোথায় দুনিয়ার মানবতাবাদী নেতারা?
কোথায় ‘এ্যমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল’? কোথায় ‘সেভ দ্যা চিলড্রেন’?
নক্ষত্রের দিকে উড়ে যাচ্ছে রক্ত। সূর্যের গায়ে লাগতে চাইছে ঘাতকের হাত।
চাঁদের বুড়ী’কে তাড়িয়ে দিতে চাইছে যেসব খুনী- আমরা তাদের পরিচয়
জানি। অথচ তারপরও দাঁড়াতে পারছি না- ওদের বিরুদ্ধে।
হে কালো ইটে নির্মিত শাদা ঘর! আর কত শিশুর প্রাণ হরণের পর
তোমার অধিপতি হাত উঁচু করে বলবেন- থামো, খুনী নব্য নাৎসীরা
থামাও তোমাদের এই নির্মম অত্যাচার!

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.