ছবির হাট বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক চর্চায় ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিরনÍর সৃজনশীল কর্মকান্ড চালিয়ে আসছে। এদেশের প্রচলিত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে ছবির হাট সম্পূর্ণ স্বতন্ত্রভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ছবির হাট মূলত সর্বস্তরের সৃজনশীল মানুষের মধ্যে একটা সেতুবন্ধন তৈরি করার প্রয়াসে ঢাকা চরুকলা সংলগ্ন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের প্রবেশদ্বারের সামনের উন্মুক্ত চত্বরে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, গায়ক, সাংবাদিক, স্থপতি, শিক্ষক, কর্মজীবী ও ছাত্রদের এবং এদেশের নানা পেশার মানুষের এক সম্মিলিত আড্ডা।

ছবির হাটের হাটুরেরা বিশ্বাস করেন মানুষের সঙ্গে মানুষের বন্ধনই পারে একটি সুস্থ জাতি ও রাষ্ট্র গঠন করতে। আর সে লক্ষেই পারস্পরিক মুক্ত চিন্তার ও চর্চার আদানপ্রদানে ছবির হাটের কর্মকান্ড অব্যাহত আছে।

গত দশ বছর ধরে প্রতি শুক্রবার নিয়মিত চিত্র প্রদর্শনীর পাশাপাশি শিল্পের বিভিন্ন মাধ্যমের কর্মশালা ও প্রদর্শনীসহ বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিটি জাতীয় দিবসকে পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে পালন করে আসছে। এছাড়াও শিল্পের নব নব ধারার চর্চা ও প্রদর্শনীর আয়োজন করে ছবির হাট।

ছবির হাট প্রতি বছর ঘুড়ি উৎসবের আয়োজন করে নতুন প্রজন্মসহ সকল মানুষের নির্মল আনন্দের ব্যবস্থা করে আসছে। ইতিমধ্যেই ছবির হাট তার দেশের গন্ডি পেরিয়ে বাংলাদেশের শিল্পকলাকে বিদেশে সুনামের সঙ্গে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে এবং একই ভাবে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে দুই দেশের অর্ধশতাধিক শিল্পীদের নিয়ে স্থাপনা শিল্পের কর্মশালা ও প্রদর্শনী আয়োজন করেছে যা এদেশে এযাবত কাল পর্যন্ত আয়োজিতর মধ্যে সবচেয়ে সারা জাগানো ও কলেবরে বৃহৎ।

২০০৮ সালে এয়ারপোর্টের সামনে লালন মুর্তি ভাঙ্গার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা বাংলার সংস্কৃতি আন্দোলনকে বেগবান করতে ছবির হাট অনন্য ভূমিকা পালন করেছে। সম্পূর্ন শান্তিপূর্ণ ভাবেও যে অসাধারন একটি আন্দোলন করা যেতে পারে তা ছবির হাটই দেখিয়েছে।

২০১৩ তে শাহবাগে গনজাগরনের সময়ও ছবির হাটের উল্লেখযোগ্য সম্পৃক্ততা ছিল। তারা আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ততা প্রকাশ করে ছবি ও বিভিন্ন শিল্পকর্ম প্রদর্শনী সহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিল। ১০০’ ী  ৬০’ দৈর্ঘ্যরে বিশাল পতাকা টাঙিয়ে আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।

একটা বিশেষ কথা ছবির হাটের এই সমস্ত কর্মকান্ডের জন্য হাটুরেরা কোন কর্পোরেট অর্থ সহযোগিতা গ্রহন করেননা। ছবির হাটের সদস্যেরা নিজেরা ব্যক্তিগতভিত্তিতে অর্থ সহযোগিতা করে এবং হাটের শিল্পীদের নিজেদের শিল্পকর্ম বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেন। বিক্রিত ছবির কোন অর্থ ছবির হাটের শিল্পীরা নেয়না। সে অর্থ দিয়েই চলে ছবির হাটের দৈনন্দিন ব্যয়ভার।

উল্লেখ্য যে, ছবির হাট এই উদ্যানের প্রবেশদ্বারে একটা সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র গড়ে তুলেছে। এবং ছবির হাটের সমস্ত কর্মকান্ড যেহেতু জনগণের মধ্যে বসেই করা হয় সেহেতু সাধারন জনগণ একজন শিল্পীর কর্মকান্ডকে কাছ থেকে দেখার ও বোঝার সুযোগ পাচ্ছেন যা এক শিল্পীত মনন তৈরি করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ছবির হাট এদেশের প্রথিতযশা শিল্পী, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, নাট্যকর্মী, স্থপতি ও নানা পেশার মানুষের এক শৈল্পিক আড্ডা। তাই ছবির হাটের জনপ্রিয়তা সীমাহীন। দেশের আপামর জনসাধারনের কাছে ছবির হাট একটা আদর্শ স্থান। যেখানে মানুষ সৃষ্টি ও চিন্তাকে খুঁজে পান এবং নিজের চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেয়ার স্বপ্ন দেখেন।

ছবির হাটের জনপ্রিয়তার কারনেই গোটা সোহরাওয়ার্দি উদ্যানকেই অনেকে ছবির হাট বলে থাকেন। যদিও ছবির হাট কেবলমাত্র উদ্যানে প্রবেশদ্বারের সম্মুখস্থ চত্বর। উদ্যান কর্তৃপক্ষ ‘গণপূর্ত মন্ত্রনালয় ও প্রশাসন’ উদ্যানের পরিবেশ রক্ষার নামে ছবির হাটের শিল্পকর্ম ধ্বংস ও লুট করেছে যা এদেশের শিল্পের ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি। কোনরকম পূর্বঘোষণা ছাড়াই তারা এই ভাংচুর করে অল্পসময়ের মধ্যে স্থান ত্যাগ করেছে। লুট হয়েছে সহস্রাধিক চিত্র ও শিল্পকর্ম। শিল্পকর্ম রাষ্ট্রের সম্পত্তি, রাষ্ট্রের কতিপয় আমলা কর্তৃক সেই শিল্পকর্ম ধ্বংস ও লুটপাট এদেশের সংস্কৃতির উপর তাদের ঘৃণার প্রকাশ। প্রশাসনিক দুর্বৃত্তায়ন, যা এদেশের শিল্প সংস্কৃতিকে বারবার বাধাগ্রস্থ করে তোলে।

আর এরই প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল ৪ টায় ছবির হাটের সদস্য ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উপস্থিতিতে একটি র‌্যালি কর্মসূচী নেয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রতিদিন ছবির হাটে থাকছে নানা প্রতিবাদী কর্মকান্ড। শিল্পীরা তাদের শিল্পের নানাবিধ উপস্থাপনের মাধ্যমে এই প্রতিবাদ কর্মকান্ড লাগাতার চালিয়ে যাবেন।

ছবির হাট বাংলাদেশের প্রতিটি সুনাগরিকের কাছে উদ্বাত্ত আহ্বান জানাচ্ছে। আসুন এদেশের সংস্কৃতির সপক্ষে দাঁড়িয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানাই।


বার্তা প্রেরক

কামরুজ্জামান স্বাধীন
০১৯১৪৭৪১০০৭
(ছবির হাটের পক্ষে)
শাহবাগ, ঢাকা।
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.