চলতি বছরের প্রায় তিন মাসে অপহৃত বা গুম হয়েছেন ৩৯ জন। তাঁদের মধ্যে মাত্র চারজন ফিরেছেন জীবিত অবস্থায়, ১২ জনের লাশ পাওয়া গেছে, ২৩ জনের কোন খোঁজ মেলেনি। তাঁরা বেঁচে আছেন, নাকি মরে গেছেন, সেটিও জানে না পরিবার।
মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান আইন সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যানের উদ্ধৃতি দিয়ে দৈনিক জনকণ্ঠের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচ বছরে অপহরণের সংখ্যা ২৬৮। এর মধ্যে ২০১০ সালে ৪৬, ২০১১ সালে ৫৯, ২০১২ সালে ৫৬, ২০১৩ সালে ৬৮ ও চলতি বছরে অপহরণের সংখ্যা ৫৩ জন। এর মধ্যে ৪৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ফিরে এসেছে ২৪ জন। এখনও নিখোঁজ ১৮৭ জন। ২০১০ সালের ২৫ জুন ঢাকার শেরেবাংলা নগর থেকে অপহৃত হন ঢাকার ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার বিএনপির নেতা চৌধুরী আলম। চার বছর হলেও এখনও তাঁর খোঁজ নেই। এর আগে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ব্যাপকভাবে ‘ক্রসফায়ার’-এর ঘটনা ঘটলেও এখন অপহরণ ও গুমের ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে।
আসকের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে ৩৯টি অপহরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে ছাত্রলীগের চারজন, ছাত্রদলের তিনজন, জামায়াত-শিবিরের দুই, বিএনপির ১১, ব্যবসায়ী তিন, চাকরিজীবী চার এবং সাধারণ নাগরিক ১১ জন রয়েছেন। এ ৩৯ জনের মধ্যে ১২ জনের লাশ উদ্ধার হয়। অপহরণের পর ছেড়ে দেয়া হয় চট্টগ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী মৃদুল চৌধুরীসহ চারজনকে। অন্য ২৩ জনের খোঁজ নেই। র‌্যাব পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার প্রায় দুই মাস হয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত পানামা পোর্ট লিঙ্ক লিমিটেডের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক (সিকিউরিটি সুপারভাইজার) মফিজউদ্দিনের।
এদিকে ২০১৩ সালে ৬৮ জনকে অপহরণের তথ্য আছে আসকে। এর মধ্যে পরে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার এবং ছয়জন ছাড়া পেলেও ৫৫ জনেরই খোঁজ নেই।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.