প্রাচীন কাল থেকেই নতুন নতুন পদ্ধতিতে মানুষ ধাঁধার সমাধান বের করছে। আবার নতুন সব ধাঁধার জন্মও দিচ্ছে। এত সব ধাঁধা মানুষকে নতুন করে ভাবতে শেখায়। এই সব ধাঁধার রয়েছে অনেক ধরনের রকমফের। কিছু কিছু ধাঁধার পুরোটাই সংখ্যার খেলা। দাবা, সলিটেয়ার এবং চেকারস খেলাগুলো আসলে অঙ্কের গোলক ধাঁধা ছাড়া আর কিছুইনা।
ধাঁধা সংক্রান্ত জনপ্রিয় কোন খেলনার কথা উঠলে, শুরুর দিকেই আসে রুবিকস কিউবের নাম। পৃথিবীর সর্বাধিক বিক্রিত খেলনার একটি রুবিকস কিউব। আজ ১৯ই মে খেলনাটি তৈরির চার দশক পূর্তি। ১৯৭৪ সালে হাঙ্গেরির স্থাপত্যের শিক্ষক এর্নো রুবিক কিউবটি তৈরি করেন। প্রথমে কিউবটির নাম দিয়েছিলেন ম্যাজিক কিউব। পরে ১৯৮০ সালে আইডিয়াল টয় কোম্পানি নাম বদলে রাখে রুবিকস কিউব। এই ধাঁধাটি যে সারা বিশ্বে এতো জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এর্নো নিজেও ভাবেননি।
এই ক্ষুদে যন্ত্রটির বিক্রির পরিমান জানার পর খুব সহজেই বিষয়টি আচ করা যায়। কেবল আশির দশকের মাঝামাঝি এর বিক্রির পরিমান ছিল বিশ কোটিরও বেশী। রুবিকস কিউবের প্রতিষ্ঠাতা এর্নো রুবিক, “কিউবটি তৈরি করার সময় আমি শিক্ষকতা করতাম। ছাত্র-ছাত্রীদের শেখানোর জন্য ভালো একটি মাধ্যম খুঁজছিলাম। কিউবটি তৈরি করার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল তাদের স্পেস রিলেশন শেখানো।” রুবিকস কিউবের ছয়টি তলের প্রত্যেকটিতে থাকে ভিন্ন রঙ। তলগুলোকে ইচ্ছেমত ঘুরিয়ে পরিবর্তন করা যায়। এলোমেলো অবস্থা থেকে আবারো একটি তলের সবগুলো বর্গের রঙ এক করতে হবে।
বর্তমান বিশ্বরেকর্ড হল ফেলিক জেমদেগসের । এই অস্ট্রেলিয়ান রুবিক’স কিউব মাস্টার স্পীড সল্ভার ২০১১ সালে মেলবোর্ন উইন্টার ওপেনে ৫.৬৬ সেকেন্ডে রুবিক’স কিউব সমাধান করেন ।আর একটি রোবট সময় নেয় তিন দশমিক দুই পাঁচ তিন সেকেন্ড । এখন পর্যন্ত সারা বিশ্ব পঁয়ত্রিশ কোটি রুবিকস কিউব বিক্রি হয়েছে।উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির লিবার্টি সাইন্স সেন্টারে চলছে প্রদর্শনী।যুক্তরাষ্ট্রে প্রদর্শনীটি চলবে সাত মাস ধরে। এরপর সাত বছরের বিশ্বভ্রমণে বের হবে রুবিকস কিউব।
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.