লিওনার্দো‌ ডি ক্যাপরিও, হলিউডের সুদর্শ‌ন নায়কদের তালিকায় অন্যতম একটি নাম। পুরো নাম লিওনার্দো‌ উইলহেলম ডি ক্যাপরিও। নারীমহলের হার্ট‌-থ্রব এ নায়কের অভিনয়ের ক্যারিয়ার জীবন বেশ বর্ণিল। শুধু চেহারা দিয়েই নয়, অভিনয় দিয়ে পুরো বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছেন হলিউডে নিজের যোগ্যতা প্রমান করতেই এসেছেন তিনি। অভিনয় জীবনে পেয়েছেনও অনেক ঈর্ষনীয় পুরস্কার তবে অস্কারের জন্য বহুবার মনোনীত হলেও ভাগ্য সহায় ছিল না কখনও। এজন্য অবশ্য তেমন আফসোসও নেই ক্যাপরিওয়ের।
কেমন ছিল ছেলেবেলা এ সফল নায়কের? সোনার চামচ মুখে নিয়েই কি জন্মেছিলেন তিনি? নাকি বহু কষ্টের পথ পেরিয়েই পেতে হেয়েছে আজকের এ অবস্থান? চলুন একটু ফিরে যওয়া যাক ক্যাপরিও এর ছেলেবেলায়।
  • -১৯৭৪ সালের ১১ই নভেম্বর লস এঞ্জেলসে জন্ম এ নায়কের। লিওনার্দো‌ নামটি তার মায়ের দেওয়া। মজার ঘটনাও রয়েছে এ নামের পিছনে। ইটালিতে লিওনার্দো‌ ডি ভিঞ্চির ছবির সামনে দাড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে ছবি দেখতে দেখতেই ঠিক করলেন ছেলের নাম রাখবেন লিওনার্দো‌। বাবার নাম জর্জ‌ ডি ক্যাপরিও। লিওনার্দো‌র জন্মের এক বছরের মাথাই ডিভোর্স‌ হয়ে যায় তাদের।
  • -এরপর মায়ের সাথে লিও চলে আসে লজ এঞ্জেলসের খুবই অস্বাস্থ্যকর,মাদকপ্রবন ও দরিদ্রপূর্ন‌ এলাকা ইকো পার্কে‌। এখানেই মা, সৎ বাবা ও সৎ ভাইয়ের সাথে বেড়ে ওঠে হলিউডের এ আবেদময় নায়ক।
  • -স্কুলেও বেশ পিটুনি খেয়েছেন শিক্ষকদের কাছ থেকে এমনটাই বলেছেন লিও। স্কুলের এ বাঁধা ধরা নিয়ম আর চারপাশের মাদক ও অপরাধপ্রবনতা দেখে জীবন যেন অসহ্য হয়ে উঠছিল ছোট্ট এ লিওয়ের। ১৫ বছর বয়সে মাকে জানালেন অভিনেতা হতে চাই আমি। থিয়েটারে ভর্ত‌ি করে দেওয়ার জন্য বায়নাও ধরল বেশ। অভিনয়ের শুরুর দিকে নাম নিয়েও বিপত্তিতে পড়তে হলো। নামটা নাকি একদমই বিদেশী মনে হয় এজন্য নিজের নাম পরবর্ত‌ন করতে বলা হলো তাকে। লিও অবশ্য রাজি হলেন না এতে।
  • -এরপর ১৯৯০ সালে কমেডি টিভি সিরিয়াল দিয়ে শুরু হলো অভিনয় জীবনের। পরবর্ত‌ীতে ১৯৯৩ সালে 'দিস বয়েস লাইফ দিয়ে চোখে পড়ে যান সবার।
    ওই বছরই আরও বেশ কিছু মন মাতানো অভিনয় করেন লিও। আর এর সুবাদেই সুযোগ পেয়ে যান সেক্সপিয়র এর 'রোমিও এন্ড জুলিয়েট' ছবিতে অভিনের সুযোগ। পরের ইতিহাস শুধুই সাফল্যের এবং সবারই জানা।
  • -১৯৯৭ সালে প্রকাশ পায় সুপার ডুপার হিট ছবি টাইটানিক। এই ছবি দিয়ে এক অস্কার ছাড়া সবই পেয়েছেন অভিনয় জীবনে। কোটি কোটি ভক্ত জুটে গেছে তখন। পরবর্ত‌ীতে 'ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান'(২০০২), দ্যা অ্যাভেয়েটর (২০০৪), ব্লাড ডাইমন্ড(২০০৬),দ্যা ইনসেপশন(২০১০) ডিজেনগো আনচেইনড(২০১২), দ্যা ওলফ অফ ওয়াল স্ট্রীট(২০১৩) দিয়ে নিজের ক্যারয়ারকে শুধুই সমৃদ্ধ করে গেছেন একের পর এক।
৩৯ বছর বয়সী চির সবুজ এ নায়ক এখনো অভিনয় করে যাচ্ছেন দুর্দা‌ন্তভাবে। আর পাওয়ার হিসেব করলে অসংখ্য অ্যাওয়ার্ড‌ের সাথে মানুষের ভালোবাসা পেয়ে যাচ্ছেন বিরামহীনভাবে।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.