কলাপাড়ায় আশ্রয় কেন্দ্র দখল করে আওয়ামী লীগ অফিস করা হয়েছে। কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের বানাতি বাজার ব্যবসায়ীদের জানমাল দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা করতে গড়ে তোলা আশ্রয়কেন্দ্র এখন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিস। সরেজমিন বানাতি বাজার গিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার বছরখানেক পর প্রথমে আশ্রয়কেন্দের ছাদ দখল করে টিনের ঘর তুলে আওয়ামী লীগের অফিস নির্মাণ করা হয়। গত বছর মহাসেনের তাণ্ডবে ছাদের উপরে তোলা অফিস ঘরটি ঝড়ে উড়িয়ে নেয়ার পর দ্বিতীয়তলা দখল করে চারদিকে টিনের বেড়া দিয়ে দরজা ও জানালাসহ ফের অফিস নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ওই অফিসে চলে সালিশ বাণিজ্য। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বানাতি বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী অভিযোগের সুরে বলেন, সুপার সাইক্লোন সিডরের পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দুর্যোগের কবল থেকে জানমাল রক্ষার্থে সরকার এই আশ্রয়কেন্দ্রটি গড়ে তোলে। কিন্তু মহাজোট সরকারের সময় প্রথমে এই কেন্দ্রের ছাদ দখল করে গড়ে তোলে অফিস। মহাসেনে অফিসটি উড়িয়ে নিলে তারা দ্বিতীয়তলা দখল করে অফিস করে। ফের জলোচ্ছ্বাস কিংবা ঝড় হলে ওই বাজারের দেড় শতাধিক দোকানি ও অর্ধশত বসতবাড়ির লোকজনের জানমালের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা রইল না। স্থানীয়রা জানান, এই অফিসে বসে সালিশ বাণিজ্য করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক কবির খান, যুবলীগ সভাপতি লিটন সাউগার, সাধারণ সম্পাদক রফিক গাজী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি সবুর প্যাদা, যুবলীগ নেতা লিটন ফকির, সাবেক যুবলীগ সভাপতি বসির উদ্দিন সান্টু, আওয়ামী লীগ নেতা কাসেম, শফিকুল ইসলাম শান্তি ফকিরসহ একাধিক নেতা। এলাকার একটি সূত্র জানিয়েছে, বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এই অফিসে সব ধরনের সালিশ বিচার চলে। এ ব্যাপারে লালুয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কবীর খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি যুগান্তরকে জানান, আশ্রয়কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় ওখানে রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ড হতো। এখানে অস্থায়ীভাবে বেড়া দিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অফিস করেছি। 

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.