ছোটপর্দায় ‘৫১বর্তী’ নাটক দিয়ে মিডিয়া জগতে আলোড়ন ফেলতে শুরু করেন তিনি। আর এই পরিচালকে হাত ধরে ছোটপর্দার নাটকে আসে ব্যাপক পরিবর্তন। প্রথমদিকে নাটকে প্রমিত ভাষার জায়গায় চলিত ভাষার প্রয়োগে বিভিন্ন সমালোচনার সম্মুখীন হলেও নবীন নাট্য নির্মাতারা তা সানন্দেই গ্রহণ করেছিলেন। তবে নানা সমালোচনার প্রতিবারই নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।
বাংলাদেশের গণমাধ্যমের একজন মানুষ হিসেবে এদেশের টেলিভিশন চ্যানেল এবং নাটক-চলচ্চিত্র-বিজ্ঞাপনের ভালো ও মন্দ নিয়ে বরাবরই বেশ সরব এই নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তাই দেশের চলচ্চিত্র বিদেশে রপ্তানি এবং বাইরের চলচ্চিত্র দেশে আমদানির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ের পক্ষে ও বিপক্ষে বিভিন্ন সময়ে যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন তিনি। সম্প্রতি ফেসবুকে তাঁর লেখা একটি স্ট্যাটাস ভীষণ বিতর্ক তৈরি করেছে। পক্ষে-বিপক্ষে চলছে নানান রকম যুক্তিতর্ক। কী এমন লিখেছেন ফারুকী সেই স্ট্যাটাসে?
সম্প্রতি ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানিসহ বাংলাদেশ থেকে ভারতকে দেয়া বিভিন্ন সুবিধার বিনিময়ে বাংলাদেশের পাওয়া-না পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে কিছুটা রূপক অর্থে একটি ব্যাঙ্গাত্মক স্ট্যাটাস লিখেছেন ফারুকী। আর তারপর থেকেই তার এই স্ট্যাটাসের পক্ষে-বিপক্ষে চলছে নানারকম আলোচনা-সমালোচনা। আর তাই ফারুকী ভক্তদের জন্য নিচে স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো-
দাদাবাড়ির মাঝি নাদের আলী বলেছিলো, “ট্রানজিট দে, দেখিস একদিন তিস্তা দিয়ে দিবো। জঙ্গি হটা, বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে দিবো।” দাদা সব নিয়ে নিয়েছে, দেয়নি কিছুই। আমাদেরও দেখা হয়নি কিছুই। ৪৩ বছর কেটে গেল। বাজার গেছে, আকাশ গেছে, পত্রিকার পাতাগুলো গেছে, চিন্তা গেছে। সিনেমা হলটা বাকি ছিলো, এবার সেটাও যাচ্ছে। যে দেশের মন্ত্রীর একমাত্র এজেন্ডা মনে হয় ভারতের ছবি আমদানি (তাও আবার ভারতের সবচেয়ে অখাদ্য ছবিগুলো), যে দেশের মন্ত্রী মনে করেন যে বাংলাদেশের সিনেমার উন্নতির একমাত্র উপায় ভারতের ছবি আনা এবং আমাদের ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক ভারতীয় কোনো সংস্থাকে দেয়া, সে দেশের ভবিষ্যৎ চরম উজ্জ্বল। এই রকম চিন্তাশীল মানুষ যদি দেশ চালান, তাহলে সে দেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল না হয়ে পারে না। আশা করি অন্যান্য দেশও (যাদের সিনেমার অবস্থা খারাপ) আমাদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে চলচ্চিত্র বিপ্লব সাধন করবে।
বি. দ্র. পাশে বসা ছোটো ভাই বললো দুই দেশের ছবি না বিনিময় হওয়ার কথা। আমি তাকে পুনরায় ‘নাদের আলী’র কবিতা পড়তে বললাম।
খুশী হয়ে ছোট্ট ভাই আমাকে “জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় জঙ্গি দমনের গুরুত্ব” বিষয়ে একটা বক্তৃতার রিপোর্ট ধরিয়ে দিয়ে বললো, ‘দেশ চালাতে এইরকম প্রতিভাই আসলে দরকার!’
আমি বললাম “এইরকম একটা মন্ত্রী তুই ফুসলিয়ে নরেন্দ্র মোদীকে দিয়ে দে, আমরা বেঁচে যাই!”
সুপ্রভাত! ইহা একটি সম্পূরক স্ট্যাটাস। কারো যদি আমার স্পিরিট বুঝতে সমস্যা হয় তাই বলছি। আমি ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতায় পূর্ণ আস্থাশীল। ভারত-বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় ছবি হোক, তাও চাই। রিসোর্স শেয়ার হোক, তাও চাই। আমাদের ছবি ভারতে চলুক, তাদেরটাও এখানে চলুক। কিন্তু তার জন্য যে একটা ফিজিবিলিটি স্টাডি করা দরকার, কর কাঠামো তৈরি করা দরকার, বছরে কতগুলো ছবি আসবে- কতগুলো যাবে এটা ঠিক করা দরকার, আমাদের হলগুলো ভারতীয় ছবি কত পার্সেন্ট স্ক্রিনিং করতে পারবে, ভারত আদৌ আমাদের ছবি চালাতে আন্তরিক কি-না, তাদের দিক থেকে কোনো রকম আইওয়াশ বা শুভংকরের অংক আছে কিনা- এই সব বিষয়ে খোলা মন নিয়ে কাজ করা দরকার।
কিন্তু এসব নিয়ে যখন কোনো উত্তেজনা দেখি না, উত্তেজনা দেখি যে ‘শুধু যেভাবেই পারো ভারতের ছবি ঢুকিয়ে দাও’- এই নিয়ে তখন প্রশ্ন আসে। যখন প্রেসক্রিপশন দেয়া হয় ‘বাংলাদেশের সিনেমার উন্নতির জন্য’ই ভারতের ছবি আনতে হবে তখনই বোঝা হয়ে যায় ‘ডাল মে কেয়া হায়!’
আগেও যেমন বলেছি- কলকাতায় হিন্দি ছবি চালালে ২৫% কর দিতে হয়, বাংলা চালাতে ২% এর মতো। কেন একই দেশে এই বৈষম্য? নিজের বাজার আর সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করা?
একটা রাজ্য সরকার যা পারে, স্বাধীন দেশের সরকার তার চেয়ে তো বেশিই পারার কথা। আমাদের নীতিমালা আমাদের লাভের দিকে তাকিয়ে করতে হবে, অন্য কারো লাভের দিকে তাকিয়ে না। বিনিময় বা বন্ধুত্ব তখনই জমে যখন দুই তরফে আন্তরিকতা থাকে। কলকাতার পত্রিকার পাতায় আমরা এখনো মহকুমার চেয়েও ছোট, কিন্তু আমাদের পাতায় ওরা সুপার পাওয়ার। আমাদের টিভি ওখানে কৌশলে বন্ধ, আমাদের এখানে ওদের টিভি সানি লিওনের মতো খোলা। আরো একশোটা ইন্ডিকেটর দেখানো যাবে যেটা আসলে বন্ধুত্বের কথা বলে না। বললে ভালো হতো। বোঝা গেছে জিনিসটা?

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.