চলচ্চিত্র প্রেমীদের কাছে “সত্যজিৎ রায়”- নামটি যথেষ্ট। তাকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। কিছুদিন আগেই ছিল বাংলা চলচিত্র জগতের অন্যতম পথিকৃতের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী। তবে যারা শুধু তাকে নামে চিনে থাকেন আজ তাদের জন্য হাজির হলাম বাংলা চলচ্চিত্রজগতের অন্যতম পথিকৃৎ সত্যজিৎ রায়ের অজানা কিছু তথ্য নিয়ে।
১৯২১ সালের ২ মে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়। খুব সীমিত মুলধন নিয়ে এই চলচ্চিত্রবোদ্ধা তার জীবনের প্রথম সিনেমা ‘পথের পাঁচালি’ নির্মাণ করেন ১৯৫৫ সালে। তবে জানিয়ে রাখা ভালো সত্যজিৎ রায়ের প্রথম প্রচেষ্টাই বিশ্বের সেরা ১০০ টি সিনেমার মধ্যে স্থান করে নেয়। একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসেবে অভিষেকের পূর্বে তিনি একটি বিজ্ঞাপন সংস্থার ক্রিয়েটিভ ভিজুয়ালাইজার/ গ্রাফিক ডিজাইনার পদে কাজ করেন। জীবনের ১২ বছর তিনি বিজ্ঞাপন, বইয়ের প্রচ্ছদ নির্মাণসহ অন্যান্য সৃজনশীল কাজ করে গেছেন।
চলচ্চিত্র জগতের এমন কোন শাখা; গল্প লেখা, চিত্রনাট্য তৈরি, সংলাপ লেখনী, কস্টিউম ডিজাইন, ক্যামেরা-ওয়ার্ক, এডিটিং, পরিচালনা থেকে শুরু করে সঙ্গীত পরিচালনা; নেই যেখানে এই (“পথিতজশা” বানান?) পরিচালকের বিরাজ নেই। নিজের তৈরি করা অনেক সিনেমায় নিজে থেকেই সঙ্গীত পরিচলাওন করেন সত্যজিৎ রায়। তার চলচ্চিত্র জীবনে ২৯ টি সিনেমা এবং ১০তি ডকুমেন্টারি ও স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমা তৈরি করেন।
কোন এক সংবাদ মাধ্যমকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে সত্যজিৎ রায় জানিয়েছিলেন তার চলচ্চিত্র নির্মাণের উৎসাহের কথা। সত্যজিৎ ভক্তদের জন্য এই তথ্য, জনপ্রিয় ইতালিয়ান “দ্যা বাইসাইকেল থিফ” সিনেমাটি তাকে অনুপ্রেরণা জগুয়েছে চলচ্চিত্র নির্মাণে। এমন ধারণা করা হয় স্টিভেন স্পিলবারগের জনপ্রিয় “ই.টি” সত্যজিৎ রায়ের কোন এক স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমার কোন এক চরিত্র থেকে অনুপ্রানিত।
সত্যজিৎ রায়-ই একমাত্র ব্যক্তি যিনি দ্যা একাডেমী অ্যাওয়ার্ড অস্কার পুরস্কারের আজীবন সম্মাননা পেয়েছিলেন। তবে দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে সে সময় অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়ায় কলকাতার হাস পাতালের সিকবেডে শুয়েই পুরস্কারটি গ্রহণ করেন। অস্কার পুরস্কার সহ ‘ভারত রত্ন’র সম্মানে ভূষিত হন।
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.