আমি কুমিল্লা জেলার পয়ালগাছা ডিগ্রি কলেজের মানবিক বিভাগের ছাত্র ছিলাম। আমার প্রিয় কলেজটি এখন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজ। স্কুলজীবনে ছাত্র হিসেবে খুবই দুর্বল ছিলাম। ক্লাসে সামনের সারিতে খালি আসন থাকলেও সাধারণত বসতাম না। আর বাংলা ও ইংরেজি ক্লাসে তো বসার প্রশ্নই আসে না। কিন্তু মন চাইতো সামনে বসি। একদিন ক্লাসে পৌরনীতি পড়াচ্ছিলেন লক্ষ্মী রানী দে ম্যাডাম। এক পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রসঙ্গ উঠল। ম্যাডাম উপদেশ দিলেন, প্রতিদিন আপনারা সকাল ৭টার রেডিওর সংবাদ শুনবেন এবং রাজনৈতিক কোনো জনসভা হলে দাঁড়িয়ে শোনার চেষ্টা করবেন।
আব্বার অতি কষ্টের টাকায় রেডিও কিনলাম। মাঝে মধ্যে ছোট-বড় রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যও শুনতাম। এভাবে দিন গড়িয়ে মাস, মাস গড়িয়ে বছর যায়। আব্বার ইচ্ছে ছিল না আমি চট্টগ্রাম বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। তার ভয় ছিল সেখানে ভর্তি হলে আমি শিবির হয়ে যাব। আম্মাকে দিয়ে দুই দিন বোঝানোর পর অবশেষে আব্বা রাজি হলেন। আব্বাকে কথা দিয়েছিলাম, নিুমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে আমি কখনোই রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জড়াব না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে লোক প্রশাসন বিভাগে ভর্তি হলাম। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষজন। মাঝে মধ্যে রোমাঞ্চিত হই। যখন একা থাকি- লক্ষ্মী রানী দে ম্যাডামের উপদেশ খুব মনে পড়ে। কিন্তু দেশের রাজনীতির যে অবস্থা, দাঁড়িয়ে নয়, কোনো রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য বসে শোনারও আগ্রহ পাই না। আব্বাকে চিঠি লিখে আশ্বস্ত করতাম- আমি রাজনীতি করি না। ২০০৯ সালের ২৭ নভেম্বর আমার আব্বা দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নেন। অন্যদিকে লক্ষ্মী দে ম্যাডাম রাষ্ট্রবিজ্ঞান পড়ান। আমার আব্বা প্রকৃতির নিয়মে দুনিয়া থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। লক্ষ্মী রানী দে ম্যাডাম পড়াতে পড়াতে অধ্যাপক হয়েছেন। কিন্তু আমাদের দেশের কজন রাজনীতিবিদ মানুষকে ভালোবেসে দেশপ্রেমিক হয়েছেন?
এ কে এম জহির উদ্দিন ইকবাল চৌধুরী, ঢাকা
prbcd.jbl@gmail.com
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.