চলে যাচ্ছি দোস্ত! একদম নেটওয়ার্কের বাইরে!! দূরে চলে যাচ্ছি, অনেক দূরে। সাব্বির আর ইভান কি তাদের মৃত্যুর কথা আগেই টের পেয়েছিল? নইলে কেন সেন্টমার্টিন যাওয়ার আগে তারা ফেসবুকে এমন কথা লিখল? শুধু সাব্বির আর ইভান নয়, সেন্টমার্টিনে নববর্ষ উদযাপন করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার ছাত্র। দুজন এখনও নিখোঁজ। শুধু তারাই নয়, সমুদ্রে নেমে এর আগেও প্রাণ হারিয়েছে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বারবার কেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে? লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই মূলত এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। জীবন কী- তা বোঝার আগেই নিভে যাচ্ছে তাদের জীবন প্রদীপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তো অবুঝ বা অপরিণত নয়! তাহলে কেন তারা জেনেশুনে নিজেদের বিপদ নিজেরা ডেকে আনছে! এর আগেও সেন্টমার্টিনে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কজন ছাত্র। কক্সবাজারে সমুদ্রে নেমে অকালে চলে গেছে সঙ্গীতশিল্পী আবিদ। তরুণরা বরাবরই অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়। বিশেষ করে তারা যখন অভিভাবক ছাড়া দল বেঁধে কোথাও যায়, তখন তাদের মধ্যে অ্যাডভেঞ্চারের ইচ্ছেটা আরও প্রবলভাবে জেগে ওঠে। এ সময় বাধা দেয়ার কেউ না থাকায় তাদের বিপদে পড়ার আশংকাও অনেক বেশি থাকে। তবে সেন্টমার্টিনের যে জায়গায় ছাত্ররা সমুদ্রে নেমেছিল, সে স্থানটি বিপজ্জনক। সেখানে ছিল গভীর খাদ। ছয় ছাত্র ছাড়াও পর্যটকদের বেশির ভাগই ওই স্থান দিয়ে অর্থাৎ জেটি ঘাটের উত্তর-পূর্ব পাশের প্রিন্স হ্যাভেন পয়েন্ট দিয়ে সাগরে নেমেছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনার সময় উপস্থিত নিহতের বন্ধুরা জানিয়েছে, সেখানে কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ছিল না। ছিল না কোনো উদ্ধারকর্মী। যদি সেরকম কিছু থাকত, তাহলে হয়তো অকালে প্রাণ হারাত না তারা। তাদের মধ্যে কয়েকজন সাঁতার জানত না। ফলে সেখান থেকে বেঁচে ফেরাটা ছিল তাদের জন্য আরও কঠিন। তাদের সঙ্গে শিক্ষক বা অভিভাবক কেউ থাকলে হয়তো সতর্ক করে দিত, যারা সাঁতার জানে না, তাদের হয়তো পানিতে নামা থেকে বিরত রাখত। আনন্দ করতে গিয়ে এরকম মর্মান্তিক মৃত্যু কারোরই কাম্য নয়। সেন্টমার্টিনে বিপজ্জনক স্থান থাকতেই পারে। তাই সেই এলাকার নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের প্রতি অনুরোধ- বিপজ্জনক জায়গাগুলোয় সতর্ক থাকার নির্দেশনা সংবলিত সাইনবোর্ড স্থাপনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উদ্ধারকর্মী নিয়োগ করুন। এর পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতারও প্রয়োজন আছে। হুট করে সমুদ্রে নামার আগে জায়গাটা নিরাপদ কিনা, তা নিশ্চিত হয়ে তবেই নামা উচিত। যারা সাঁতার জানে না, তাদের পানিতে না নামাই ভালো। আর নামলেও তীরের কাছাকাছি থাকা উচিত। ছাত্ররা কোথাও বেড়াতে যাওয়ার আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি এবং সম্ভব হলে শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার নিয়ম করা যেতে পারে। তরুণ বয়সটাই হচ্ছে অজানাকে জানার বয়স। তাই ভ্রমণের ইচ্ছেটাকে দমিয়ে রেখে নয়, বরং নিয়ম মেনে সচেতনতার সঙ্গে ভ্রমণ করলে আর কাউকেই এভাবে অকালে চলে যেতে হবে না।
শাহলা শাহনাজ দ্যুতি, শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
dyuti1110@gmail.com
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.