ডায়াবেটিস হওয়ার ১০-১২ বছর পর কিডনির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সঠিকভাবে খাওয়া না হয় এবং ডায়াবেটিসের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে এ সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে। রক্তে শর্করা আধিক্য থাকলে বা ডায়াবেটিস হলে শুরুতেই কিডনির গ্লোমেরুলাস আক্রান্ত হয়। গ্লোমেরুলাস হল কিডনির ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশ যেখানের রক্ত পরিস্র“ত হয়ে প্রস্রাব তৈরি হয়। উপধমনী এবং ক্যাপিলারিতে অ্যাথেরোস্কেরোসিস এবং অ্যানজিওপ্যাথির চিহ্ন দেখা দেয়। তবে এর অগ্রগতি ধীর প্রকৃতির। প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে। রোগ বাড়লে প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন যেতে থাকে। ধীরে ধীরে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। প্রস্রাবে মাইক্রো অ্যালবুমিন নামক প্রোটিন নির্গত হওয়ার পাশাপাশি রক্তে ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বাড়তে থাকে। নেফ্রোপ্যাথি বা কিডনির অসুখ হলে কিডনিতে বারবার ইনফেকশন হতে পারে। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যায়। এমনও দেখা গেছে, ইনসুলিন-নির্ভর ডায়াবেটিস রোগীর ১০-১৫ বছর পর ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা কমে যায়। এ অবস্থায় মনে হতে পারে, ডায়াবেটিস ভালো হয়ে গেছে। বাস্তবে তা কিন্তু নয়। কিছুদিন পর আবার ডায়াবেটিস বেড়ে যায়, প্রস্রাব থেকে প্রোটিন যায়, রক্তচাপ বেড়ে যায়, শরীর ফুলে ওঠে, যার পরিণতি কিডনি ফেইলিওর। কিডনি রোগ প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। রোগীও প্রথমদিকে কিডনি সমস্যার উপসর্গগুলো বুঝতে পারেন না। ‘এসিই ইনহিবিটর’ নামক উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে কিডনি ভালো থাকে।
ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথির ঝুঁকি বেড়ে যায় যদি-
* রক্তে সঠিকভাবে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকে।
* দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস থাকলে।
* উচ্চ রক্তচাপ থাকলে।
* পরিবারের কারো কিডনি রোগ থাকলে।
* শরীরে অন্যান্য ক্ষুদ্র রক্তনালীর জটিলতা থাকলে।
* ডনি রোগ প্রতিরোধের উপায়
* ব্লাড সুগার সবসময় স্বাভাবিক মাত্রায় রাখা।
* রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা।
* প্রস্রাবে নিয়মিত অ্যালবুমিন বা মাইক্রোঅ্যালবুমিন পরীক্ষা করা।
* রক্তে ক্রিয়েটিনিন নিয়মিত পরীক্ষা করা।
* প্রতিদিন অন্তত ৮-১০ গ্লাস বিশুদ্ধ পানি পান করা।
* প্যারাসিটামল কিংবা শারীরিক ব্যথার ওষুধ সম্ভব হলে না খাওয়া। 

ডা. বিমল কুমার আগরওয়ালা
হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.