রাজধানীতে বর্তমানে চলাচলরত প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাস-মিনিবাসের অর্ধেকের বেশির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (২০ বছর) পেরিয়ে গেছে। এছাড়া অধিকাংশ বাসেরই দরজা-জানালা ভাঙা। একই অবস্থা আসনগুলোরও। সব মিলিয়ে ফিটনেস ছাড়াই চলছে রাজধানীর ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাস বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দৈনিক বণিক বার্তা
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার তথ্য তুলে ধরে পত্রিকাটি জানায়, রাজধানীতে চলাচলকারী বাসের প্রায় ৯৫ শতাংশই মিনিবাস। বাকি ৫ শতাংশ বড় বাস। মিনিবাসগুলোর মধ্যে আবার প্রায় দুই হাজার বা ৫৭ শতাংশ ২০ বছরের বেশি পুরনো। বাকিগুলোর অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল থাকলেও অবস্থা খুবই নাজুক। চলমান বাস-মিনিবাসের প্রায় ৬৮ শতাংশের দরজা-জানালা ভাঙা। বসার আসন ছেঁড়া ও ভাঙা ৫২ শতাংশের এবং বাইরের কাঠামো ভাঙাচোরা ৬০ শতাংশের। আর দুই স্তরের কাঠামো (স্টিল ও ফোম বা কাপড়) নেই ৮০ শতাংশ বাস-মিনিবাসের। যেসব বাসে স্টিলের কাঠামোর ভেতর ফোম বা কাপড়ের স্তর আছে, সেগুলোরও অধিকাংশ ছেঁড়া। এছাড়া ৯৮ শতাংশ বাস-মিনিবাসেই পাখা নেই। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) বাসগুলোয় পাখা থাকলেও এর প্রায় সবই অকেজো। বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বণিক বার্তাকে বলেন, রাজধানীতে চলমান ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসই ফিটনেসবিহীন।
এদিকে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ফিটনেসবিহীন বাস-মিনিবাস রাজধানীর সড়ক থেকে তুলে দিতে এরই মধ্যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। আগামী ছয় মাস এ টাস্কফোর্স কাজ করবে।
উল্লেখ্য, রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন এসব বাস-মিনিবাস অপসারণে বার বার সময় দিয়েও তা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না যোগাযোগমন্ত্রী। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি তুলে দেয়ার ঘোষণা দেন তিনি। গত ৫ এপ্রিল বিমানবন্দর সড়কে যানজট পরিস্থিতি পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন। তবে সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার আগেই ২৭ এপ্রিল আরো ছয় মাস সময় বাড়ানো হয়। এক্ষেত্রে বিআরটিএর চেয়ারম্যানকে প্রধান করে বাস মালিক সমিতির সদস্যদের নিয়ে ১১ সদস্যবিশিষ্ট টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এর আগেও যোগাযোগমন্ত্রী তিনবার সময় দিয়েছিলেন রাজধানী থেকে ফিটনেসবিহীন গাড়ি তুলে দিতে।
বিআরটিএর তথ্য উপস্থাপন করে পত্রিকাটি জানায়, ২০১১ সালের জুনে রাজধানীতে মিনিবাস নিবন্ধন না দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। এর পর কোনো নতুন মিনিবাস রাজধানীতে নামেনি। আর গত চার বছরে বেসরকারি খাতে নতুন কোনো বড় বাসও নামেনি। বিআরটিসি বেশকিছু বাস নামালেও অনেকগুলোই অকেজো হয়ে পড়েছে। বর্তমানে রাজধানীতে ৯২টি কোম্পানির বাস সার্ভিস রয়েছে। তিন বছরে বন্ধ হয়ে গেছে ২৭টি কোম্পানি। এছাড়া ১৬৬ রুটের মধ্যে ১১২টিতে কোনো বাস নেই। ১২টি রুটে চলছে মাত্র একটি কোম্পানির বাস। এদিকে গত জুনে রাজধানীতে নতুন ১০০ এসি মিনিবাস নামানোর ঘোষণা দেন ওবায়দুল কাদের। এক মাসের মধ্যে এগুলো নামানোর কথা থাকলেও ১০ মাসেও তা নামেনি।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.