নারী নির্যাতন একটি প্রাত্যহিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর নারী নির্যাতনের অনেকগুলো প্রকারের মধ্যে ধর্ষণ অন্যতম ঘৃণিত একটি কাজ। আর এমন একটি ঘৃণিত কাজ থেকে বাদ পড়েনি বলিউডের নামজাদা সব তারকা। ভাবতে খারাপ এবং অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্য। বলিউডের এমন অনেক তারকাকে খুজে পাওয়া যাবে যারা ধর্ষণের প্রতিরোধে কাজ করে নিজেই সেই ঘৃণিত কাজটি করেছেন। আর এই কেলেঙ্কারিতে জড়ানো বলিউড তারকাদের তালিকা খুব সংক্ষিপ্তও না। তেমনি কেলেঙ্কারিতে জড়ানো কিছু তারকাকে নিয়ে আজকের প্রতিবেদন। চলুন তবে দেখে নেয়া যাক কোন কোন তারকা এই ঘৃণিত কাজটির সাথে নিজের নাম জড়িয়েছেন।
আঙ্কিত তিওয়ারি
খুব সাম্প্রতিক একটি ঘটনা 'আশিকি টু' সিনেমারর জনপ্রিয় 'সুন রাহা হে না তু' গানের কণ্ঠশিল্পী আঙ্কিত তিওয়ারি বিরুদ্ধে তার বান্ধুবিকে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, অঙ্কিতের ঐ বান্ধুবি সেদিন তার বোনের বাসায় একাই ছিলেন। আঙ্কিত সেখানে গিয়ে তাকে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভারসোভা পুলিশ আঙ্কিত এবং তার ভাই অঙ্কুরকে গ্রেপ্তার করেছ। অঙ্কিতের প্রেমিকা পেশায় একজন ইভেন্ট ম্যানেজার।
মাধুর ভান্ডারকার
চলচ্চিত্র পরিচালক মাধুর ভান্ডারকারও সুভাষের মতো একই দোষে দুষ্ট। মাধুর 'পেজ থ্রি', 'ফ্যাশন' এর মতো আলোচিত সিনেমার পরিচালক হলেও তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছিলেন অভিনেত্রী প্রীতি জেইন। প্রীতি জানিয়েছেন, মাধুর তাকে ১৯৯৯ সাল থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তাকে টানা নির্যাতন করে গিয়েছেন। যদিও বরাবরই ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাধুর। শেষ পর্যন্ত সাক্ষী-প্রমাণের অভাবে প্রীতির করা ধর্ষণ মামলাটিও সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করে দেয়।
শাহিনী আহুজা
বলিউডের আলোচিত ঘটনার মধ্যে একটি। কয়েক বছর আগের ঘটনা হলেও এর মাশুল আজো গুনতে হচ্ছে এই তারকাকে। 'গ্যাংস্টার' খ্যাত অভিনেতা আহুজার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন তার বাসার কাজের মেয়ে। মেয়েটির অভিযোগ আমলে নিয়ে ২০০৯ সালের ১৪ জুন তাকে আটক করে পুলিশ। এর পর আদালতে আহুজার অপরাধ প্রমাণিত হলে আদালত তাকে ৯ বছরের কারাদণ্ড দেন।
ইন্দার কুমার
কিছুদিন আগে বলিউড অভিনেতা ইন্দার কুমারের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনেন ২৩ বছর বয়সী এক মডেল। ওই মডেল বলেছেন, ইন্দার তাকে দুইবার ধর্ষণ করার পাশাপাশি শারিরিক নির্যাতনও করেছে। ইন্দার তার মাথায় বিয়ারের বোতল দিয়ে আঘাত করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে সিগারেটের আগুনে পুড়িয়ে দেন। যদিও ইন্দারের স্ত্রী পল্লবী কুমার সারাফ দাবি করেছেন যে, তার স্বামী নির্দোষ। তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে।
আদিত্য পাঞ্চোলি
বলিউড অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলি তো সিরিজ কেলেঙ্কারির জনক। আদিত্যও তার বাসার কাজের মেয়েকে ধর্ষণ করেছিল। প্রেমিকা মনিকা বেদির বাসার কাজের মেয়েকেও সে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। আর এই ঘটনার কারণেই তার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন মনিকা। আদিত্যর বাসার কাজের মেয়ে বলেছেন, সিনেমার নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে আদিত্য তাকে ধর্ষণ করেছে।
সুভাষ কাপুর
'জলি এলএলবি' খ্যাত পরিচালক সুভাষ কুমার কুখ্যাত মেয়েদের নায়িকা বানানোর লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করার ক্ষেত্রে সব থেকে পটু। সম্প্রতি এক পার্টি চলাকালীন সময়ে এক নায়িকা তাকে কষে থাপ্পড় মারেন। আর ওই থাপ্পড় মারার ভিডিওচিত্র কে বা কারা ইন্টারনেটে প্রকাশ করে দেয় তা আজো অজানা। এরপর ওই নায়িকার কাছে থাপ্পড় মারার কারণ জানতে চাইলে তিনি মিডিয়াকে বলেন, "আমার থাপ্পড় মারার পেছনে কোনো ধর্ষণের ঘটনা নেই। তবে, শ্লীলতাহানীর ব্যাপার রয়েছে।"

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.