নিজস্ব প্রতিবেদক: নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় ঢেলে সাজানো হচ্ছে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন। গতকাল বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ৮৫ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। এত সংখ্যক পুলিশ সদস্যকে এক জেলা থেকে একসঙ্গে বদলির ঘটনা নজিরবিহীন।

এদিকে লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ খানকে নারায়ণগঞ্জ র‌্যাব-১১-এর অধিনায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তিনি র‌্যাব-৫-এর অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান বলেন, নারায়ণগঞ্জে সাতজনকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। এতে নারায়ণগঞ্জসহ গোটা দেশেই আলোড়ন সৃষ্টি হয়। যাদের বদলি করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা কর্তব্যে অবহেলা নয়। নারায়ণগঞ্জের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নতুনভাবে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটকে ঢেলে সাজানোর প্রয়াস হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দফতর সূত্র জানায়, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও জেলা ডিবির পরিদর্শক থেকে এএসআই পর্যন্ত সব কর্মকর্তাকেই বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই থানা ও ডিবির পরিদর্শক পদমর্যাদার ছয়জন, ৪০ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও ৩৯ জন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রয়েছেন। ছয় পরিদর্শকের মধ্যে তিনজন ওসির দায়িত্বে এবং অপর তিনজন পরিদর্শক (তদন্ত) হিসেবে ছিলেন। তবে দুই থানা ও ডিবির কনস্টেবলদের বদলি বা প্রত্যাহার করা হয়নি। 

এর আগে গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জে নজরুলসহ সাতজনকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের এসপি, জেলা প্রশাসক, র‌্যাব-১১-এর অধিনায়কসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার ও বদলি করা হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব শূন্য পদে পদায়ন করা হবে বলে জানাগেছে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশের গাফিলতিও ছিল। ঘটনার দিন নজরুলের সহযোগীরা আদালত চত্বর থেকে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এরপর তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। নিহতের পরিবারের সদস্যরা বলে আসছেন, সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তি র‌্যাবের পরিচয় দিয়েছেন। তার কোমরে অস্ত্রও ছিল। তবে পুলিশের স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, র‌্যাব পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে অভিযোগ করেন, আদালত চত্বরে আটক করা র‌্যাব সদস্যকে নজরুলের গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য রাখা হয়েছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক তথ্য বেরিয়ে আসবে। ছয়কোটি টাকার ভাগ পুলিশের সদ্য সাবেক এসপি সৈয়দ নুরুল ইসলামও পেয়েছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। এমনকি টাকার বিনিময়ে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা পুলিশের অনেক সদস্যের জানা ছিল বলে তিনি দাবি করেন।

পুলিশের বিরুদ্ধে স্বজনের অভিযোগ, নূর হোসেনসহ সন্দেহভাজন আসামিদের নাম প্রথম থেকে বলা হলেও পুলিশ আমলে নেয়নি। তাই প্রধান আসামি নূর হোসেনসহ এজাহারভুক্ত অন্যরা পালানোর সুযোগ পায়। এছাড়া র‌্যাবের সদ্য সাবেক অধিনায়কসহ সাতজন আসামিকে বাদ দিয়ে মামলার এজাহার করতে বাধ্য করে পুলিশ।
 
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, র‌্যাব পরিচয় পাওয়ার পর মোস্তফা কামাল নামে যে ব্যক্তিকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দু'একদিনের মধ্যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। 

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের ঘটনার পর থেকেই মূলত র‌্যাব-১১-এর কোনো টিমকে নগরীতে টহল দিতে দেখা যাচ্ছে না। আপাতত সেখানে তাদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। র‌্যাব-১১-এর নতুন অধিনায়ক দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই ইউনিটও ঢেলে সাজানো হবে। 
বদলিকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি আবদুল মতিন, ফতুল্লা থানার ওসি আকতার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মাহবুবুর রহমান, ডিবির পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুল আউয়াল, এসআই ওয়াহেদুজ্জামান, আতাউর রহমান, ফজলুল হক তালুকদার, আবদুল লতিফ, জহিরুল হক, আবদুল কুদ্দুস, মাজহারুল হক, এনামুল হক, আসমা আক্তার, মিজানুর রহমান, নাজমুল আলম, আনিছুর রহমান, শহীদুল ইসলাম, শাহীন আলম, হাবিবুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, নাসির, আরিফ, ইয়াছিন, ফজলুল, নূর আলম, হাবিবুর, মিজান, আশরাফ এবং এএসআই কামরুল ইসলাম, শফিক আহমেদ, ফয়জুল্লাহ প্রমুখ।

তাদের মধ্যে সিদ্ধিরগঞ্জের ওসি আবদুল মতিনকে টাঙ্গাইলে, জেলা ডিবি পুলিশের ওসি মাহবুুবুর রহমান ও তদন্ত ওসি আবদুল আউয়ালকে বরিশাল রেঞ্জে ও ফতুল্লা থানার ওসি আকতার হোসেনকে মুন্সীগঞ্জে বদলি করা হয়েছে। 

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.