প্রতিদিনের অফিস কিংবা ঘরের একই রকম কাজ করতে করতে জীবনটা একঘেয়ে হয়ে ওঠে। আর এই এক ঘেয়ে জীবন থেকে মুক্তি পেতে সন্ধ্যার পরেই ক্লান্ত শরীরে কেউ বসে পরেন টিভির সামনে, কেউ মুভি দেখেন কেউবা শোনেন গান। কিন্তু এভাবে কতটুকুই বা আপনার একঘেয়েমী কাটাতে পারে বলতে পারেন? ২% ও না। আর এভাবে ধীরে ধীরে মানসিক চাপ, ব্যস্ততা, একঘেয়েমী মিলে প্রতিনিয়ত একটু একটু করে আপনি আক্রান্ত হন বিষন্নতায়। এবং সেটা চরম মাত্রায় পৌঁছে গেলে ডাক্তারের শরনাপন্নও হতে পারেন আপনি। তাই দৈনন্দিন জীবনের একঘেয়েমীকে গুরুত্ব না দেয়াটা বেশ বড় বোকামী হতে পারে।
এই একঘেয়েমী থেকে চটজলদি মুক্তি পেতে পারেন কয়েকটি সহজ উপায়ে।

১। ছুটি নিন সব কাজ থেকেঃ

একদম সব কাজ থেকে ছুটি নিন। দিন তিনেক বা সাতেকের জন্যে অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নিন। ঘরের কাজও কিন্তু কম পরিশ্রমের নয়, তাই ছুটি নিতে হবে সেটি থেকেও। যে কাজগুলো আপনি দৈনিক করে থাকেন তার একটিও এই ৩-৭ দিন করবেন না আপনি। এমন কিছু করুন যেগুলো করার কথা বহুদিন ধরে ভাবছিলেন কিন্তু করতে পারেন নি।

২। বেড়িয়ে আসুন লোকালয় থেকে দূরেঃ

চেনা পরিবেশ থেকে দূরে চলে যান। প্রিয়জনকে নিয়ে বা একাই চলে যান লোকালয় থেকে দূরে প্রক্রিতির খুব কাছাকাছি কোথাও। পাহার, ঝরনা, সমুদ্র বা অরন্যে হারিয়ে গিয়ে টেরই পাবেন না কখন মুছে গেছে একঘেয়েমীর ধূসর রঙ।

৩। প্রিয়জনের সাথে বাইরে খেতে যানঃ

যদি একান্তই বাইরে কোথাও যাবার সুযোগ না হয়, তাহলে প্রিয়জনকে নিয়ে বাইরে কোথাও খেয়ে আসুন, হাতে হাত ধরে হাঁটুন, মুভি দেখুন, যেতে পারেন শপিং এ ও!

৪। নতুন কিছু করুনঃ

পুরোনো কাজগুলো করা যাবে না। কিন্তু নিজেকে একটিভ তো রাখতেই হবে। ছুটির প্রথম এক দিন বিশ্রাম নিন। তারপর এমন কিছু করুন যা আপনি কখনোই করেন নি। মেডিটেশন বা ইয়োগার ক্লাস করতে পারেন, পোষা প্রাণী কিনে আনতে পারেন। এগুলো আপনাকে মানসিক শান্তি আর আনন্দ দুটোই দেবে।

৫। পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা করুনঃ

পুরোনো বন্ধুদের সাথে ব্যস্ততার কারনে হয়তো দেখা করার অবসরই মেলে না। তাই এটাই সুযোগ। একেবারে স্কুল জীবনের বন্ধুদের সাথে দেখা করুন, প্রাণ খুলে আড্ডা দিন।

৬। নতুন পোষাক পরুনঃ

নতুন পোষাক পড়ুন। বেশ রঙিন হলে ভালো হয়। যে ধরনের পোশাক সচরাচর পরেন না, সে ধরনের পোশাক ট্রাই করতে পারেন। কে কি বললো, একদম পাত্তা দেবেন না।

৭। সাজিয়ে তুলুন নিজের আশপাশঃ

নিজের আশপাশকে সাজিয়ে তুলুন। দেয়ালে নতুন রঙ, বাহারি গাছ, ছবি সব মিলিয়ে কিছুটা নতুনত্ব আনুন। দেখবেন একঘেয়েমী কেটে গেছে।

৮। নিজেকে সময় দিন, দিন উপহারঃ

সব সময়ে তো অন্যের কথাই ভাবেন। এ কটা দিন কেবল নিজেকে সময় দিন। শপিং করুন নিজের জন্যে, উপহার কিনুন।
দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনে চাপ থাকবেই, তাই বলে নিজের জীবনের আনন্দটুকু হারিয়ে যেতে দেবেন না। জীবন হোক পাখির ডানায় রঙিন! ভালো থাকুন।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.