ডিভোর্স যেন আজকাল প্রত্যেকের নখদর্পনে। সামান্য ঝগড়াতেই এখন ডিভোর্স হয়ে যাচ্ছে বহু দম্পতির, যত্নে গড়া সংসার গুঁড়িয়ে যাচ্ছে মুহূর্তের মাঝে। লক্ষ্য করলে দেখবেন ডিভোর্সের পর একজন পুরুষ যতটা না ভেঙে পড়েন, তার চেয়ে অনেক বেশি ভেঙে পড়েন একজন নারী। অনেক পুরুষই ডিভোর্সের পর বরং হাফ ছেড়ে বাঁচেন, কিন্তু আকাঙ্ক্ষিত ডিভোর্স পাওয়ার পরেও একজন নারীর অবস্থা হয়ে পড়ে শোচনীয়। নারীরা এত বেশি ভেঙে পড়েন কেন? কেন তাঁরা বিষণ্ণতায় ভোগেন?

১. আবেগ :

স্বাভাবিকভাবে পুরুষের তুলনায় একজন নারী বেশি আবেগময়ী হয়ে থাকেন। পুরুষের মাঝে আবেগ বিষয়টা খুব কম কাজ করে। কিন্তু একজন নারীর মাঝে এটি কাজ করে অনেক বেশি। সেক্ষেত্রে ডিভোর্সের পরে তারা বেশি করে ভেঙে পড়েন। একসময়ের ভালোবাসাটাকে তারা কোনোভাবেই ভুলতে পারেন না।

২. ভালোবাসার গভীরতা :

স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কে ভালোবাসা থাকবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এই ভালোবাসাটা কতখানি গভীর এটা ভাবার বিষয়। দুজনই দুজনকে একসময় অনেক বেশি ভালোবাসেন। কিন্তু ডিভোর্সের পর একজন পুরুষ খুব দ্রুত বিষয়টি ভুলে গেলেও একজন নারী তা সহজে ভুলতে পারেন না তার কারণ হল নারীরা শক্ত মনের অধিকারী খুব কমই হয়ে থাকেন। একজন নারী তার স্বামীকে গভীরভাবে ভালোবেসে থাকেন, স্বামীকে ছাড়া কখনই অন্যকিছু ভাবতে তারা আগ্রহী হয়ে থাকেন না। এ কারণে হঠাৎ বিচ্ছেদে তারা বেশ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।

৩. সংসারের মায়া :

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিচার করলে বিয়ের পর একজন নারীর সবকিছু বলতে বোঝায় তার সংসারকে। সংসারের সব দায়িত্ব তার থাকে। একটু একটু করে একজন নারী তার প্রিয় সংসারটিকে গড়ে তোলেন। ফলে নিজের তৈরি সংসারটিকে ছেড়ে তিনি যখন চলে যান এর কষ্ট তিনি সহজে ভুলতে পারেন না। সংসারের মায়ার কারণে একজন নারী ডিভোর্সের পরেও সুখী হতে পারেন না। অথচ একজন পুরুষ সংসারকে ভুলে খুব সহজভাবেই সুখী হয়ে থাকেন। প্রয়োজনে আরেকটি বিয়ে করে ফেলেন।

৪. সহনশীলতা :

একজন নারীর চেয়ে একজন পুরুষ অধিক পরিমাণে সহনশীল ক্ষমতার অধিকারী হয়ে থাকেন। এর ফলে ডিভোর্সের পরের ধাক্কা পুরুষটি খুব সহজেই সামলিয়ে উঠতে পারলেও নারীটি তা পারেন না। ফলে তারা ভেঙ্গে পড়েন।

৫. সন্তানপ্রীতি :

বাবা মা দুজনেই সন্তানদের অনেক বেশি ভালোবাসেন এটা সত্যি কথা। কিন্তু তার পরও সন্তানকে ছেড়ে বাবা যতটা না থাকতে পারেন মা তা একেবারেই পারেন না। তাই ডিভোর্সের পরে বাবার চেয়ে মায়েরাই বেশি ভেঙ্গে পড়েন কেননা তারা সন্তানদের ছেড়ে একমুহূর্তও থাকতে পারেন না। এছাড়া মায়েরাই ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন বেশি।

৬. সামাজিক মর্যাদা :

আমাদের মাঝে সমাজ বলে একটি বস্তু আছে যাকে একপাক্ষিকভাবে মনে হয় যে এটি মনে হয় শুধুমাত্র মেয়েদের জন্যই তৈরি। এ কারণে ডিভোর্স হলে তা একজন পুরুষের জন্য যতটা সহজ একজন নারীর জন্য তার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। সমাজে ডিভোর্সী নারীদের প্রতি যে ধরনের আচরণ করা হয় তা একজন ডিভোর্সী পুরুষের প্রতি করা হয় না। এ কারণেও নারীরা অনেক বেশি ভেঙ্গে পড়েন।

৭. মানসিক অবস্থা :

মেয়েরা মানসিকভাবে পুরুষের চেয়ে কম শক্তিশালী হয়ে থাকেন। একজন পুরুষ যে ধরনের মানসিক চাপ সহ্য করতে পারেন তা একজন নারী সহ্য করতে পারেন না। আর এই কারণেই ডিভোর্সের মত জীবনের একটি বড় অধ্যায়কে পুরুষরা খুব সহজে মেনে নিলেও নারীরা তা মেনে নিতে পারেন না। ফলে তারা মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.