ইদানিং অনেককেই স্মৃতিশক্তির দুর্বলতায় ভুগতে দেখা যায়। হঠাৎ করেই কিছু একটা মনে করতে চাইলেও হয়তো মনে পড়ছে না। চাবি, মোবাইল, ঘড়ি কোথায় রেখেছেন মনে করতে না পাড়া, কারো নাম ভুলে যাওয়া, একটি কাজ করেছেন কি করেননি সেটা চট করে মাথায় না আসা ইত্যাদি। এই ধরণের সমস্যাকে আমরা কেউই তেমন গুরুত্ব দেই না। মনে করি সাধারণ কিছু কিংবা বেশি চিন্তা করি বলে অথবা হঠাৎ করে মাথায় নাই আসতে পারে বলে উড়িয়ে দিয়ে থাকি।
কিন্তু আসলেই কি এইসব সাধারণ কিছু? মোটেই নয়। এই সামান্য ভুলে যাওয়া থেকে স্মৃতিবিভ্রমের মতো অনেক মারাত্মক কিছুও হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই আমাদের এই নিয়ে অবহেলা না করাই ভালো। কিন্তু আমরা কি জানি, আমাদের এই স্মৃতিশক্তির দুর্বলতার জন্য আমরা নিজেরাই দায়ী? আমাদের নানা বাজে অভ্যাস এবং কাজের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্বল হচ্ছে স্মৃতিশক্তি।

বিষণ্ণতায় থাকা

নানা কারনেই অনেককে বিষণ্ণতায় পড়তে দেখা যায়। বিষণ্ণতা আপাত দৃষ্টিতে তেমন ভয়ানক কিছু মনে না হলেও এর রয়েছে সুদূরপ্রসারী প্রতিক্রিয়া। বিষণ্ণতায় ভোগা মানুষের মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা অনেক কম থাকে। এতে করে ধীরে ধীরে কমে যায় স্মৃতিশক্তি। বিষণ্ণতার কারণে অনেকের স্মৃতিশক্তি একেকবারে নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যায়। তাই বিষণ্ণ থাকা বন্ধ করুন। এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন।

মানসিক দ্বন্দ্বে থাকা

অনেকে সময় বিভিন্ন কারণে আমরা প্রায় প্রত্যেকেই মানসিক দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগে থাকি। কোনো একটি কাজ করা উচিৎ হবে কি হবে না, কে কী ভাববে ইত্যাদি ধরণের কথা ভেবে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে অনেক মানসিক দ্বন্দ্বে পড়ি। কিন্তু এই কাজটি আমাদের মস্তিস্কের জন্য কতোটা ক্ষতিকর তা আমরা অনেকেই জানি না। মানসিক দ্বন্দ্বে থাকলে আমাদের মস্তিস্কের নিউরন ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে। এতে করে মস্তিস্ক স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়। আর এভাবেই দুর্বল হতে থাকে আমাদের স্মৃতিশক্তি। তাই মানসিক দ্বন্দ্ব থেকে যতোটা দূরে থাকা সম্ভব ততটাই ভালো।

আবেগ প্রকাশ করতে না পারা

অনেকেই আছেন যারা বেশ চাপা স্বভাবের হয়ে থাকেন। সহজে নিজের আবেগ এবং মনে ভাব প্রকাশ করতে পারেন না। মনের ভেতর কী হচ্ছে তা কাউকে বলেও বোঝাতে পারেন না। তাদের স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। আমাদের মস্তিস্কের ডান অংশ আবেগ এবং বাম অংশ লজিক নিয়ে কাজ করে। দুটো অংশ সমান কাজ করলে আমরা স্বাভাবিক থাকি। কিন্তু একটি অংশের কর্মক্ষমতা কম হলে আমাদের মস্তিষ্কে অনেক চাপ পরে। এতে করে মস্তিস্ক স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা হারায়। আর এভাবেই দুর্বল হতে থাকে আমাদের স্মৃতিশক্তি।

ড্রাগস, ধূমপান এবং মদ্যপান

ড্রাগস, ধূমপান এবং মদ্যপান এই তিনটিই স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে দেয়ার জন্য সমান ভাবে দায়ী। নিকোটিন ও অ্যালকোহল আমাদের মস্তিস্কের সাধারণ কর্মক্ষমতা এবং স্বাভাবিক চিন্তা করার শক্তি নষ্ট করে দেয়। যারা ড্রাগস নেন তাদের সাধারণ যুক্তি এবং চিন্তা করার ক্ষমতা অনেক দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। যারা নিয়মিত ধূমপান ও মদ্যপান করেন তাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যায়।

থায়ামিনের অভাব

আমাদের দেহে থায়ামিনের অভাব হলে আমরা স্মৃতিশক্তি দুর্বলতা রোগে পরে থাকি। থায়ামিন এবং ভিটামিন-বি আমাদের নার্ভ সিস্টেমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। থায়ামিনের অভাবে নিউরোলজিক্যাল ডিজঅর্ডারে ভুগতে দেখা যায় অনেককে। তাই স্মৃতিশক্তির দুর্বলতাকে অবহেলা না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।

ঘুম না হওয়া

অনেকেই কাজের ব্যস্ততায় অনেক কম ঘুমান যা পরবর্তীতে অনিদ্রা রোগে পরিনত হয়। এছাড়াও ঘুম কম হওয়া এবং না হওয়ার ওপর একটি মারাত্মক প্রভাব হলো স্মৃতিশক্তি নষ্ট হওয়া। আমরা যখন ঘুমাই তখন আমাদের মস্তিষ্কে নতুন নিউরনের সৃষ্টি হয় যা আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে সঠিক রাখে। কিন্তু ঘুম কম বা না হলে মস্তিস্ক তা করতে পারে না ফলে আমাদের স্মৃতিশক্তি দিনের পর দিন দুর্বল হতে থাকে। যা পরবর্তীতে শর্ট টার্ম মেমোরি লসের মতো মারাত্মক আকার ধারন করতে পারে। তাই প্রতিদিন একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিৎ।
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.