“মুদ্রাদোষ” শব্দটির সাথে কমবেশী আমরা সবাই পরিচিত। এটি হল ব্যক্তির এমন এক ধরনের আচরণ যা তিনি অসচেতনভাবে করে থাকেন। কিন্তু ঘন ঘন করার ফলে এটি তার ব্যক্তিত্বের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিনত হয়। যা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই খুব একটা ভালো দেখায় না। খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে থাকলে, আনমনা হয়ে থাকলে কিংবা খুব অস্থির থাকলে আমরা আমাদের মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি, সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক আচরণেরও। মুদ্রাদোষ সৃষ্টি হতে পারে নানান ধরনের মানসিক অস্থিরতা, স্থবিরতা, মনোযোগের অভাব, সচেতনতার অভাব, চারপাশের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের অভাব, এমনকি নৈতিকতা বোধের অভাব থেকেও। অনেক সময় এই মুদ্রাদোষের কারণেই একজন মানুষের আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্ব ম্লান হয়ে যেতে পারে বা অন্যরা তাকে ভুল বুঝতে পারেন। নিজের মুদ্রাদোষ নিয়ে যন্ত্রণায় আছেন? তাহলে জেনে নিন এই দোষটা চিরকালে দূর করার সহজ কৌশল!

মুদ্রাদোষের রকমফেরঃ

মুদ্রাদোষ নানা রকমের হতে পারে। যেমন,
  • -হাতের নখ কামড়ানো বা পা নাচানো
  • -কথা বলার সময় বার বার শ্রাগ করা
  • -হাতের কাছে কিছু পেলেই সেটা নিয়ে কান চুলকানো
  • -মাথা বা শরীরের কোন স্থান চুলকানো
  • -কোন একটি বিশেষ শব্দ বার বার ব্যবহার করা
  • -হাতের আঙ্গুল ফোটানো
  • -নাকের ভেতর আঙ্গুল ঢুকিয়ে চুলকানো ইত্যাদি
কিন্তু এসব মুদ্রাদোষ থেকে আপনি কিছু সহজ উপায়ে চেষ্টা করেই মুক্তি পেতে পারেনঃ

১। আপনার মুদ্রাদোষটি সনাক্ত করুন

প্রথমেই সনাক্ত করুন আপনার মুদ্রাদোষ উপরের কোনটি। নিজে না পারলে আপনার আশপাশের কাছের মানুষদের জিজ্ঞেস করুন।

২। কাছের মানুষদের সাহায্য নিন

কাছের মানুষদের বলুন আপনি যখনই আপনার মুদ্রাদোষের আচরণটি বেখেয়ালে করতে শুরু করেন তারা যেন আপনাকে থামিয়ে দেন এবং মনে করিয়ে দেন।

৩। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

যদি কোনভাবেই আপনার মুদ্রাদোষের অভ্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে একজন বিষেশজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন।

৪। অভিভাবকরা সন্তানের দিকে খেয়াল রাখুন

অভিভাবকরা তাদের সন্তানের দিকে খেয়াল রাখুন। সন্তানদের ছোটবেলা থেকেই এই সব আচরনের সম্পর্কে সাবধান করুন এবং কোনটি দেখা গেলে বুঝিয়ে বলুন।

৫। সব সময় সচেতন থাকুন

মুদ্রাদোষটি সনাক্ত করার পরে কিছুদিন কমপক্ষে সপ্তাহ দুয়েক সচেতন থাকুন এই আচরণটি না করার জন্যে। এভাবেই ধীরে ধীরে এটি আপনার সু অভ্যাসে পরিনত হবে। যেমন যদি পা নাচানোর মুদ্রাদোষ থাকে, তাহলে পায়ের উপর পা না তুলে বলে দু পা মাটিতে নামিয়ে বসার অভ্যাস করুন।

৬। মেডিটেশন করুন

মেডিটেশন করুন। এতে আপনার মনোযোগ ও একাগ্রতা বাড়বে। ফলে বেখেয়ালী হয়ে মুদ্রাদোষ এর আচরণগুলো করবেন না আপনি।

৭। অতিরিক্ত ঘুমাবেন না, কাজে বা কথায় মনোযোগী হোন

অতিরিক্ত না ঘুমিয়ে সে সময়টা সৃজনশীল কাজে ব্যয় করুন। যখন যা করছেন, তাতে মনোযোগ দিন। এতেই কাজ হবে অনেকটা।
এভাবেই আপনি মুক্তি পেতে পারেন বিরক্তিকর মুদ্রাদোষ থেকে আর হয়ে উঠতে পারেন নিখুতঁ আকর্ষনীয় ব্যক্তিত্বে।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.