সভ্যতার যেমন অনেক সুবিধাদি আমরা ভোগ করে থাকি, প্রতিদানে সভ্যতাও আমাদের অনেক জঞ্জাল উপহার দিয়ে থাকে। আধুনিক শহর, শুধু শহর কেন গ্রামীণ জীবনও সভ্যতার ছোঁয়ায় নিত্যনতুন সাজে সেজে উঠছে প্রতিদিন। আমরা দিন দিন আধুনিক থেকে হয়ে উঠছি অত্যাধুনিক। এর সাথে পাল্লা দিয়ে পণ্যগুলো দৌড়ে যাচ্ছে। মনে আছে নিশ্চয় টেলিভিশনের "টুনিটেক" বিজ্ঞাপনের কথা। ছোট ছোট প্লাস্টিক ব্যাগে ভরে পণ্য বাজারজাত করা এখন আর কাউকে ভাবায় না। অথচ এসব পণ্যের ব্যবহার শেষে তার মোড়ক, বোতলগুলো পরিবেশের কতটা ক্ষতি সাধান করছে তা আজ কোন গবেষণার বিষয় নয়, নিতান্তই সাধারণের গোচরে চলে এসেছে। এক আমেরিকাতেই বছরে পাঁচশ কোটি পানির বোতল ব্যবহৃত হয়, যার অধিকাংশই রিসাইকেলের আওতায় আসে না। অনুন্নত দেশের চিত্রটা আরো ভয়াবহ।
কেমন হয় যদি পানি পান শেষে পাত্রটি খেয়ে নেয়া যায়?
অবাক হচ্ছেন? না অবাক হওয়ার দিন বোধহয় ফুরিয়েছে। "রদ্রিগো গার্সিয়াা গঞ্জালেস" "ইম্পেরিয়াল কলেজ, লন্ডন" এর ছাত্র "পিয়েরে পাসলার" ও "গুইলামে কউচি"কে সাথে নিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন এমন কিছুই করার।
সাধারণত কোন কিছু বোতলজাত করার আগে বোতল তৈরি করা হয়, তারপর সে বোতলে কাঙ্খিত পণ্য ভরা হয়। গঞ্জালেস পানিকে প্রথমে বরফে রূপান্তরিত করেছেন। তারপর সে কঠিন পানিকে উনি ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড দ্রবণে ডুবিয়ে নিয়েছেন। এর ফলে জেলির মত নরম একটা প্রলেপ পড়েছে কঠিন বরফের উপর। বাদামী শেওলার নির্যাসে ডুবিয়ে সে প্রলেপটাকে আরো মজবুত করেছেন। শেওলার দ্রবনে যত বেশি ডুবিয়ে রাখা যায় বহিরাবরণ তত শক্ত হয়ে ওঠে। গঞ্জালেস বলেছেন, "পানিকে বরফে রূপান্তরের কারণ হল সেটাকে বড় আকার দেয়া আর ক্যালসিয়াম এবং শেওলা যেন সেটাকে ভালভাবে জড়িয়ে রাখতে পারে।"
জিলোটিনের আবরন নিয়ে এর আগেও কিছু কাজ হয়েছে, সাধারণ ভাবে একে "স্ফেরিফিকেশন" বলা হয়ে থাকে। পঞ্চাশের দশকে "ইউনিলিভার" এর প্রচলন করেছিল আর একে জনপ্রিয় করে তুলেছিলেন নামী দামী স্পেনিশ শেফ "ফেররান আদ্রিয়া"। এ প্রযুক্তির ব্যবহার হত নকল "ক্যাভিয়ার" এবং "বুদ্বুদায়িত চা" বানাতে। এ প্রযুক্তি যে পানির পাত্র বা বোতলের জায়গা নিতে পারে গঞ্জালেসের আগে আর কেউ ভাবেন নি। গঞ্জালেস এবং তার দল অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এর বাস্তব পরীক্ষা চালিয়েছেন ইতালি, স্পেন ও বৃটেনে। গত গ্রীষ্মে স্পেনের রাস্তায় একটি লোকাল টিভি চ্যানেলের জন্য পাত্রের কয়েকটি মডেল নিয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। ব্যবহারকারীদের কাছে প্রশ্ন ছিল "কেমন খেতে পানির পাত্রটি? কেউ কেউ বলেছেন এটা জেলি মাছের মত। আবার কেউ বলেছেন এটা বিরক্তিকর।
গঞ্জালেসের ভাষায় "এ পাত্রটি অনেকটা ফলের খোসার মত (কমলা জাতীয়)। আর এর বড় দূর্বলতাই এটা। এর আকার বড় হলে পানি ধরে রাখতে পারছে না ফেটে যাচ্ছে। প্রয়োজনে পাত্রটি বানানোর প্রক্রিয়া একাধিকবার প্রয়োগ করে একে কিছুটা শক্ত করা যায়"।
যাই হোক, এমন কিছু এলে মন্দ হয় না। পানির, ফলের রসের বা তেলের ব্যবহৃত বোতলে সয়লাব হয়ে যাওয়ার হাত থেকে মুক্তি পেতে হলে এমন বিকল্প অবশ্যই আশির্বাদ হয়ে আসবে। আমরা তো আর অভ্যাস থেকে ফিরে আসতে পারছি না।
সূর্য
বিভাগ:

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.