সমাজে কিছু ব্যাপারে রয়েছে কুসংস্কার, অকারণ আশঙ্কা এবং ভীতি। তারই মাঝে রয়েছে অটিজম। অটিজম নিয়ে আমাদের মাঝে আছে অনেক অনেক ভুল ধারণা। অটিস্টিক মানুষদের আমরা ফেলে দেই বাতিলের খাতায়। কিন্তু তাদের মাঝে যেমন প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে, তা দেখা যায় না আর কোথাও। অটিজম বিষয়ে সচেতনতার মাস এপ্রিলে রইলো এমন ৭ জন অনন্যার কাহিনী, অটিস্টিক হওয়া সত্ত্বেও তারা ছাড়িয়ে গেছেন মানুষের প্রত্যাশার সীমানা, নিজেকে করে তুলেছেন যোগ্য ও বিখ্যাত।
অটিজম আসলে কি?
এটা হলো মানুষের বেড়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় এমন একটা জটিলতা যা জীবনের প্রথম তিন বছরেই প্রকাশ পায়। অন্যদের সাথে যোগাযোগ এবং কথাবার্তা বলার ক্ষেত্রে সে মানুষটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এটা এমন এক জটিলতা যা প্রত্যেক মানুষকে আলাদাভাবে প্রভাবিত করতে পারে। কোনো একটি নির্দিষ্ট কারনে অটিজম হয় এমনটা এখনও জানা যায়নি। কিন্তু একটা ব্যাপার পরিষ্কার। অটিস্টিক মানুষকে মানুষ বলে গণ্য করা হয় না প্রায় সময়েই। তাদেরকে গ্রহণ করা হয় না সমাজে, কারণ তারা চিন্তা করেন অন্যভাবে। এই অন্যভাবে চিন্তা না করলে যে সমাজে উন্নতি হবে না, এটা কেন আমরা ভুলে যাই? নিজেদের সসৃজনশীলতা দিয়ে তারা পৃথিবীতে নিজের স্থান নিজেই করে নিয়েছেন, চোখে আঙ্গুল দিয়ে ভুল প্রমাণিত করেছেন অন্ধকূপে পড়ে থাকা সমাজকে।

১) হেনরিয়েট সেথ

লেখিকা এবং কবি হেনরিয়েট সেথ ১৯৮০ সালে হাঙ্গেরিতে জন্মগ্রহণ করেন। শিশুকাল থেকেই অন্যদের সাথে কথাবার্তা বলতে, বিশেষ করে চোখে চোখ রেখে কথা বলতে ভীষণ সমস্যা হত তার। এ কারণে তিনি যখন প্রাথমিক স্কুলে ভর্তি হতে যান তখন আশেপাশের প্রায় সব স্কুল তাকে ভর্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু এতে দমে যাননি তিনি। ৭ বছর বয়সে বাঁশি বাজানোয় পটু হয়ে ওঠেন তিনি। ১১ বছর বয়সে কন্ট্রা ব্যাস। তার অসাধারণ সব চিত্রকর্ম দেখে মনে হতে পারে তা পৃথিবীর বাইরে থেকে এসেছে। নিজের এই চিত্রকর্ম এবং কাব্যপ্রতিভার কারণে তিনি অর্জন করেন গেজা গারডনি পুরষ্কার। লিখেছেন বিখ্যাত বই "ক্লোসড ইনটু মাইসেলফ উইথ অটিজম"।

২) জেসিকা অ্যাপলগেট

১৯৯৬ সালে জন্ম নেওয়া জেসিকা হলেন একজন ব্রিটিশ প্যারাঅলিম্পিক সাঁতারু। তিনি জীবন শুরু করেন অ্যাসপারজার'স সিন্ড্রোম নিয়ে। ১৩ বছর বয়সের মাঝেই সাঁতারে নতুন নতুন রেকর্ড গড়তে শুরু করেন তিনি। ২০১২ সালে প্যারাঅলিম্পিকের জন্য মনোনীত হন, যেখানে ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে স্বর্ণ জেতার পাশাপাশি তৈরি করেন নতুন বিশ্বরেকর্ড। এরপর আর তাকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক প্রতিযোগিতা জয় করে তিনি নিজের প্রতিভার কথা জানিয়ে দিয়েছেন সবাইকে।

৩) লুসি ব্ল্যাকম্যান

লুসি অটিজমে আক্রান্ত একজন অস্ট্রেলিয়ান লেখিকা। ১৯৭২ সালে জন্ম নেবার পর জীবনের অনেকটা সময়ে টাইপ করে অন্যদের সাথে কথাবার্তা বলতেন তিনি। ১৪ সালের মাঝে হয়ে ওঠেন স্বাধীন একজন টাইপিস্ট। ২০০১ সালে প্রকাশিত হয় তার বই "লুসি'স স্টোরি"।

৪) আমান্ডা ব্যাগস

আমেরিকায় অটিস্টিক মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করেন আমান্ডা। ১৯৮০ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া এই নারী কথা বলতে পারেন না বলে জানা যায়। ২০০৭ এর জানুয়ারিতে তার তৈরি করা ইউটিউব ভিডিও "In my language" ভীষণ জনপ্রিয়তা পায়। সে সময়ে সিএনএন এই ভিডিও নিয়ে একাধিক রিপোর্ট করে। এখন আমান্ডার রয়েছে নিজস্ব ব্লগ যাতে তিনি নিজের জটিলতা নিয়ে আলোচনা করেন।

৫) ডনা উইলিয়ামস

অস্ট্রেলিয়ান লেখিকা, চিত্রশিল্পী এবং গায়িকা ডনা জন্মগ্রহণ করেন ১৯৬৩ সালের জানুয়ারিতে। জন্মের সময়ে তার অটিজম ধরা পড়েনি, শুধুমাত্র শ্রবণশক্তিতে কিছু সমস্যা ছিলো। অনেক পড়ে, ১৯৯১ এ তার অটিজম ধরা পড়ে। বর্তমানে তিনি অটিজম নিয়ে মানুষের মাঝে সচেতনতা ছড়ানোর ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন।

৬) লিয়ান হলিডে উইলি

১৯৫৯ সালে জন্ম নেওয়া লিয়ানের মাঝে ১৯৯৯ সালে ধরা পড়ে অ্যাসপারজার'স সিনড্রোম। এর পরেও তিনি লেখেন একের পর এক বই। এমনকি ১৫ বছরের ওপরে ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করেন তিনি।

৭) সুজান বয়েল

"ব্রিটেইন'স গট ট্যালেন্ট" টিভি অনুষ্ঠানে আসার পর স্কটিশ নারী সুজান হয়ে ওঠেন বিখ্যাত। এই সঙ্গীশিল্পীতর অ্যালবাম হয়ে ওঠে বেস্টসেলার। নিজের জটিলতার কারণে ছোটবেলাতে অন্যদের নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু এর পরেও তিনি হয়ে ওঠেন সফল।
বিভাগ: ,

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.