একটি সিনেমা মোটামুটি তিন ঘণ্টা লম্বা হয়। তাহলে পয়সা ও সময় খরচ করে তিন ঘণ্টা যাবত একটা বাজে সিনেমা কেন দেখবেন? হ্যাঁ, বলিউডি সিনেমা দেখতে আমরা প্রায় সকলেই ভালোবাসি। তাই বলে কি বলিউডের সব সিনেমাই ভালো? একেবারেই কিন্তু নয়! বরং এমন কিছু সিনেমা আছে সেগুলো দেখার পর রাগে-হতাশায় নিজের চুল ছিঁড়তে ইচ্ছা করবে আপনার। আসুন, আজ দেখি তেমনই বাজে ৫টি সিনেমা।
চাঁদনি চক টু চায়না
খামোখাই টেনে বড় করা হয়েছে সিনেমাটিকে। প্রথম দশ মিনিট দেখেই আপনি নিজেকে গাল দিতে শুরু করবেন কেনই বা দেখতে বসেছিলেন সিনেমাটি। সিনেমা সমালোচকদের অনেকেই অক্ষয় কুমারের এ যাবত কালের সবচাইতে বাজে কাজের আখ্যা দিয়েছেন। এখানেই শেষ নয় বলিউডের বর্তমান ফ্যাশন আইকন দীপিকার অদ্ভুত সাজগোজ আপনাকে বিরক্ত বৈ কি অন্য কিছু করবেনা। সিনেমার কাহিনীও কুংফু পাণ্ডার সাথে ভারতীয় প্যাঁচ দেয়া একটা অদ্ভুত জগা খিচুড়ি!

আইয়া

রাণী মুখারজির ক্যারিয়ারে জঘন্যতম সিনেমার আখ্যা পেয়েছে ‘আইয়া’ সিনেমাটি। অদ্ভুত, অপ্রাসঙ্গিক এবং অশ্লীলতায় পরিপূর্ণই একটি সিনেমা। কুৎসিত কমেডির আড়ালে যেন রানীর সেই উচ্ছল প্রাণবন্ত অভিনয় দক্ষতা ঢাকা পড়ে গিয়েছে। এই সিনেমাটি করে রাণী আবারও প্রমাণ করেছেন বলিউডে তার ক্যারিয়ার শেষ।
জয় হো
ভারতের দক্ষিণী সিনেমা এবং হলিউডি এই দুই ধাঁচকে এক করতে গিয়ে পুরোই জগা খিচুড়িতে পরিনত হয়েছে সালমানের ‘জয় হো’ সিনেমাটি। দুর্বল চিত্রনাট্য এবং ইংরেজি ‘পে ইট ফরওয়ার্ড’ সিনেমার নকল সিনেমাটি দেখেই মনে হবে কি দরকার ছিল সিনেমাটি তৈরি করার!
লাভ স্টোরি ২০৫০
নামটি শুনে আক্ষরিক অর্থে প্রেমের সিনেমা মনে হলেও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া-হারমান বাওয়েজা অভিনীত লাভ স্টোরি ২০৫০ মূলত একটি সায়েন্স ফিকশন। টেকনিক্যাল কাজ ভালো হলেও আসল সমস্যা সিনেমার কাহিনিতে। পুনর্জন্মের মত একটা অবৈজ্ঞানিক ব্যাপারের সাথে বিজ্ঞান মেলাতে গিয়ে সম্পূর্ণ জগাখিচুড়ি হয়ে গিয়েছে সিনেমাটি। হারমানের নাচ ছাড়া অভিনয় বলতে গেলে ভীষণ বাজে। আর যেহেতু সিনেমার প্রায় পুরোটা জুড়ে হারমান তাই দর্শকের বিরক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। সিনেমাতে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার লাল রঙা চুল আলোচনা সৃষ্টি করতে পারলেও তার উদ্ভট মেক ওভার ওই দ্বিতীয় অংশে বাজে অভিনয় নিয়ে ততটাই বিরক্ত হয়েছে দর্শক। ৩ ঘণ্টা ব্যয় করে এই বাজে সিনেমাটি না দেখাই শ্রেয়।
জোকার
বলিউডের এ যাবত কালের সব চাইতে বাজে সিনেমা হচ্ছে জোকার। এতই বাজে যে কখন এলো আর কখন গেলো দর্শক জানতেও পারেনি। এখানেও রয়েছে নায়ক অক্ষয় কুমারের সেই একই ভুল যা চাঁদনী চক টু চায়নায় ছিল, বিদেশী কাহিনীর বিচ্ছিরি নকল করতে যাওয়া! একের পর এক ব্লকবাস্টার হিট সিনেমা উপহার দেয়া অক্ষয়কে অনেক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হয় এই দুর্বল সায়েন্স ফিকশন নিয়ে। সিনেমার গল্প এবং উপস্থাপনে পরিচালকের দুর্বলতাকেই কারণ হিসেবে ধরা হয়। অনেকে অক্ষয়-সোনাক্ষি অভিনীত ‘জোকার’কে বস্তাপচা সি গ্রেডের সিনেমা বলতেও দ্বিধা করেননি।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.