এই গরমে কাজ বা পড়াশোনা যে কারনেই হোক। বাসার বাইরে বেরুতেই হয় আর পুড়তে হয় অসম্ভব তাপপ্রবাহে। আর আই তাপপ্রবাহ যেন থামবার নামই নিচ্ছে না। এই গরমের বিচ্ছিরি একটি শারিরীক প্রভাব হল ঘামাচি।
ঘামাচি কেন হয়?
সাধারণত প্রচন্ড গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দেহের ত্বকের মরা কোষ, ময়লা ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সেখানের ঘাম বেরুতে না পেরে ফুসকুড়ির মত ফুলে ওঠে। এটিই মূলত ঘামাচি। ঘামাচি থেকে দূরে থাকুন কিছু সহজ উপায়ে।

১। আঁটসাঁট পোষাক পরবেন নাঃ

শরীরের সাথে আঁটসাঁট হয়ে লেগে থাকে এমন পোষাক্ক এড়িয়ে চলউন। চেষ্টা করুন এই গরমে একটু ঢিলে ঢালা পোষাক ব্যবহার করতে। এতে পোষাকের ভেতর দিয়ে বাতাস চলাচল করতে পারেবে সহজে ও ঘাম কম হবে। ফলে ঘামাচির সম্ভাবনাও কমে আসবে।

২। হালকা রঙের সুতি পোষাক বেছে নিনঃ

ঘরে ও বাইরে ব্যবহারের জন্যে বেছে নিন রুচিশীল হালকা রঙের সূতি পোষাক। গাঢ় রঙ ও সিন্থেটিক কাপড় তাপ শোষণ করে দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয় ও ঘামাচি হয়ে থাকে।

৩। যতটা সম্ভব বাতাসযুক্ত স্থান বেছে নিনঃ

রাস্তা বা সেখানেই থাকুন চেষ্টা করুন একটু ছায়াময় ও বাতাসযুক্ত স্থানে থাকার। বদ্ধ ও তীব্র রোদে শরীর থেকে ঘাম ও ময়লা বেরিয়ে ঘামাচি জন্ম নেয়।

৪। ঘুমাবার সময় ঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুনঃ

ঘুমাবার সময় চেষ্টা করুন যততা সম্ভব ঘরে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করে ঘর ঠান্ডা রাখার। টেবিল ফ্যানটি ঠিক শরীরের কাছাকাছি নিয়ে আসুন অথবা টেবিল ফ্যানের সামনে বোতলে বরফ জমিয়ে রেখে দিন। সেটি এয়ার কন্ডিশনারের কাজ করবে। ঘুমানোর আগে ঘরের মেঝে একটু পানি দিয়ে মুছে নিতে পারেন। এতেও ঘর ঠান্ডা থাকবে।

৫।প্রতিদিন কয়েক বার গোসল করুনঃ

চেষ্টা করুন প্রতিদিন কয়েক বার গোসল করার। চুল যদি লম্বা হয়, তবে প্রতিবার চুল না ভেজানোই ভালো। নয়তো চুলের স্যাঁতসেঁতে ভাব পিঠের উপর থাকার কারণে ঘামাচি হতে পারে

৬। রঙ ও গন্ধবিহীন সাবান ব্যবহার করুনঃ

গোসলের সময় ব্যবহৃত সাবানটি যাবে রঙ ও গন্ধহীন হয় সে ব্যাপারে খেয়াল রাখুন। এতে আপনার শরীর বাড়িতি কোন কেমিকেলের সংস্পর্শে আসবে না।

৭। ঘামে ভেজা অপরিস্কার পোষাক/অন্তর্বাস বেশিক্ষণ পরে থাকবেন নাঃ

চেষ্টা করুন প্রতিদিন পরিস্কার পোষাক পরার ও অন্তর্বাস প্রতিদিন ধুয়ে ফেলার। একই অন্তর্বাস/ পোষাক কয়েক দিন একনাগাড়ে পরবেন না। বাইরে থেকে ঘরে ফিরে ঘামে ভেজা পোষাক যত দ্রুত সম্ভব পালটে নিন ও গোসল করে ফেলুন।

৮। লোশন, ক্রীম, পাউডার বা তেল ব্যবহারে সতর্ক থাকুনঃ

ঘামাচি প্রতিরোধী লোশন, ক্রীম বা তেল ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এতে রোমকূপ বন্ধ হয়ে ঘামাচি হতে পারে। এর চেয়ে পরিচ্ছন্ন থাকুন। ঘামাচি দূরে থাকবে।
ঘামাচি একবার হলে সেটা বেশ বিব্রতকর আর ভালো হতেও খানিকটা সময় নেয়। তাই এর চেয়ে এতী প্রতিরোধের চেষ্টা করাই সহজ এবং ভালো।

Author Name

যোগাযোগের ফর্ম

নাম

ইমেল *

বার্তা *

Blogger দ্বারা পরিচালিত.